সিনে দুনিয়ার তারকারা সাংবাদিকদের সামনে অনুভূতি তুলে ধরেন। ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্য করেন বিভিন্ন বিষয়ে। চলচ্চিত্রজগতে এসব খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে হালের বলিউডে বিষয়টিকে অন্য মাত্রায় নেয়ার কাজটা করছে জনসংযোগকারী বা পিআর। দায়িত্ব তাদের যেটাই থাক, সময় কাটে মূলত তারকাদের অহংকারে ঘি ঢালা এবং বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ মোকাবেলার কাজে। হাতে তাদের অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ। এ নতুন প্রবণতার ভয়াবহতার মধ্যে সব থেকে বড় ভুক্তভোগী সিনেমার স্বাধীন সমালোচকরা।

ডিজিটাল প্লাটফর্মে কাজ করা এক সমালোচক জানান, তার একটা রিভিউয়ের শেষ কয়েক লাইন পরিবর্তন করতে বলে অন্যতম বৃহৎ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এদিকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে এক স্ট্রিমিং জায়ান্টের পিআর তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেন। তার ফোনের উত্তর দেয়া বা ই-মেইলের জবাব দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি চলচ্চিত্র ও শোগুলোর প্রদর্শনীতে। পরবর্তী সময়ে তিনি তার অবস্থান ফিরে পেতে শুরু করেন এক বন্ধুর সহযোগিতায়। এটি কেবল একটি ঘটনা মাত্র, এ রকম উদাহরণ বেশুমার। বলিউডে অধিকাংশ আয়োজনে প্রবেশাধিকার পায় শুধু ইতিবাচক সমালোচকরা। তারা এমন সমালোচকদের এড়িয়ে চলেন, যাদের প্রশ্ন কিংবা আলোচনা সমালোচনামূলক হতে পারে।

কিছুদিন আগেও সাংবাদিক ও জনসংযোগকারীদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। আগে বড় সেলিব্রিটিরা প্রচার অভিযানের সময় নিউজরুমে যেতেন। সাংবাদিকরাও সহজে ফিল্ম সেটে ঢুকে অভিনেতার সাক্ষাৎকার নিতে পারতেন। এটা এখন সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গ টেনে এক সমালোচক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘২০১২ সালে এক তরুণ অভিনেতা ব্যক্তিগতভাবে তার ইন্ডি ফিল্ম মুক্তির আগে সাক্ষাৎকার নিতে অনুরোধ করেছিলেন। এখন তিনি খুব বড় অভিনেতা। হিন্দিতে ব্যবসাসফল সিনেমা করেছেন। এখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। যোগাযোগ করতে হলে পিআরের মাধ্যমে যেতে হবে। তিনি নিজে সাড়া দেবেন না।’

তার চেয়ে বড় কথা, আজকাল প্রায়ই সাক্ষাৎকারের অনুরোধ তারকা পর্যন্ত পৌঁছায় না। পিআর শুধু এমন সুযোগের কথাই তারকাকে জানান, যা তার জন্য সুবিধাজনক হবে। সাংবাদিকদের ভিডিও ফুটেজ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করেন, তার পরে তা সম্পাদনা করে পাঠান। একবার এক”অভিনেতা তো সাক্ষাৎকারের মাঝপথে মেজাজই হারিয়ে ফেলেন, পরে তিনি পিআরকে নির্দেশ দেন সে অংশ মুছে ফেলতে। এভাবে কিছু সাংবাদিককে”সমস্যাযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তাদের প্রেস কনফারেন্সে অংশ নিতে দেয়া হয় না। বেশির ভাগ শিল্প ইভেন্ট খুবই নিয়ন্ত্রিত থাকে। সাংবাদিকদের আগে থেকেই যাচাই-বাছাই করা হয়। সবচেয়ে সহায়ক সাংবাদিকদের হাতে দেয়া হয় মাইক্রোফোন।

বলিউডে পিআরের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই খুব সাধারণ হয়ে উঠছে। যাদের তারকা ও দর্শকের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালনের কথা, তারা হয়ে উঠেছেন দ্বাররক্ষক। সিনেমার আসল আনন্দ উপভোগ করাটা আর হয়ে উঠছে না, বরং আবৃত হচ্ছে মিথ্যার চাদরে, যেখানে আয় ও অর্থই প্রধান।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস