দেশের নিয়মানুসারে ব্যান্ড সদস্যরা একে একে গিয়েছিলেন বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে। বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তিন বছর নয় মাস পর অবশেষে ফিরে এসেছে বিটিএস। গতকাল প্রকাশ হয়েছে তাদের পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘আরিরাঙ’। সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে টাইটেল ট্র্যাক ‘সুইম’-এর মিউজিক ভিডিও।

বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ বিটিএস আর্মি (বিটিএস-ভক্ত) আছেন। বিটিএসের সর্বশেষ সদস্যের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিটিএস আর্মি দিন গুনছিলেন কবে আসবে নতুন অ্যালবাম। অবশেষে তাদের অপেক্ষার অবসান ঘটল। আরিরাঙ এই ব্যান্ডের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ অ্যালবাম। সাত সদস্যের নিজেদের জীবনের গল্প, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা এই অ্যালবামের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নিজেদের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছে।

লিড সিঙ্গেল ‘সুইম’ মূলত জীবনের নানা ওঠানামার মাঝেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্পের কথা বলে। ইন্টারলিউড ছাড়া প্রায় সব ট্র্যাকেই অবদান রেখেছেন ব্যান্ড সদস্য আরএম। আর সুগা ও জে-হোপ ‘বডি টু বডি’, ‘মেরি গো রাউন্ড’ ও ‘নরমাল’সহ একাধিক গানে কাজ করেছেন।

সুইম নিয়েই বেশি কথা হচ্ছে। শব্দের দিক থেকে গানটি সংযত কিন্তু গভীর অনুভূতিময়। সেখানে বড় আকারের আয়োজনের চেয়ে আবেগকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবার শোনার সঙ্গে সঙ্গে এর উষ্ণতা বাড়তে থাকে, যা ব্যান্ডের দৃঢ়তার বার্তাকে প্রতিফলিত করে। এটি যেন কোনো বড় প্রভাব ফেলার জন্য তৈরি করা কামব্যাক গান নয়, বরং এক ধরনের আত্মপ্রতিফলন—ঘনিষ্ঠ এবং প্রায় ধ্যানমগ্ন। আরএমের ভাষায়, গানটির আকর্ষণ এর সরলতা ও কার্যকারিতায়।

মিউজিক ভিডিওটিও একই অনুভূতি বহন করে। এতে অভিনয় করেছেন লিলি রাইনহার্ট। গল্পটি একটি জাহাজে ভেসে চলার মাধ্যমে এগোয়, যা অনিশ্চয়তা, নিরাময় ও আত্ম-অন্বেষণের প্রতীক। এমনকি কোরিওগ্রাফিও সেই অনুযায়ী—নিয়ন্ত্রিত, পরিকল্পিত ও আবেগনির্ভর, যেখানে চমকপ্রদ উপস্থাপনার চেয়ে অনুভূতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সুইম যেখানে অ্যালবামের আবেগের কেন্দ্র, আরিরাঙ সেখানে একটি বৃহত্তর ক্যানভাস। ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান লোকসংগীত আরিরাঙ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অ্যালবামটি আকাঙ্ক্ষা, সহনশীলতা ও দূরত্বের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরে, যা দীর্ঘদিন ধরেই বিটিএসের গল্প বলার অংশ। এখানে শিকড়ে ফেরার একটি সচেতন প্রচেষ্টা দেখা যায়। ১৪টি গানের মাধ্যমে বিটিএস তাদের যাত্রাপথ তুলে ধরেছে—বিশ্বজোড়া সুপারস্টারডম থেকে নিজের পরিচয় পুনরাবিষ্কার পর্যন্ত। অ্যালবামের প্রথম ভাগ—বডি টু বডি, হুলিগান, এফওয়াইএ—বড় মাপের, স্টেডিয়াম উপযোগী শক্তিশালী সাউন্ড নিয়ে তৈরি। তবে এ উচ্চ উদ্দীপনার গানগুলোর মধ্যেও আত্ম-অন্বেষণের ছাপ রয়েছে।

অ্যালবামটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর গভীর সৃজনশীল অংশগ্রহণ। আরএম প্রায় পুরো অ্যালবামজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, আর সুগা ও জে-হোপ ছন্দময় ও ডায়নামিক অংশগুলোকে সমৃদ্ধ করেছেন। অন্যদিকে জিমিন, ভি ও জাঙ্কুক বিশেষ করে অ্যালবামের শেষের দিকের গানগুলোতে ভিন্নধর্মী সুর ও আবেগের বৈচিত্র্য এনে দিয়েছেন।