শাহরুখ খান অভিনীত ‘ডন’ (২০০৬) এবং ‘ডন-২’ (২০১১)-এর ব্লকবাস্টার সাফল্য পায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরেই এ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তির অপেক্ষায় ছিলেন দর্শকরা। সেই ধারাবাহিকতায় ‘ডন-৩’-এ নতুন ডন হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন রণবীর সিং। ২০২৩ সালে একটি স্টাইলিশ টিজারের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়া হলেও সিনেমাটি এখন বলিউডপাড়ার সবচেয়ে বড় আইনি ও পেশাদার বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। সিনেমাটির শুটিং শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে সম্প্রতি রণবীর সিং প্রজেক্টটি থেকে আকস্মিক বিদায় নেন। ফলে পরিচালক ফারহান আখতার এবং প্রযোজনা সংস্থা ‘এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট’-এর সঙ্গে তার চরম বিরোধ তৈরি হয়েছে।
বিরোধের মূল কারণ ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ
রণবীর সিং ‘ডন-৩’ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রজেক্টটি ঝুলে থাকার পরও চূড়ান্ত ও লকড স্ক্রিপ্ট তৈরি ছিল না এবং সৃজনশীল কিছু বিষয়ে তার দ্বিমত ছিল। তবে প্রযোজক ফারহান আখতার ও রিতেশ সিধওয়ানি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাদের দাবি, রণবীরের সম্মতি ও উপস্থিতিতেই সিনেমার স্ক্রিপ্ট রিডিং, লোকেশন রেকি এবং অ্যানাউন্সমেন্ট প্রোমোর শুটিং হয়েছিল। সিনেমাটির প্রি-প্রডাকশন, বিদেশ সফর এবং ২০০ জনেরও বেশি ক্রু মেম্বারের অগ্রিম বুকিং বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। রণবীরের এ আকস্মিক প্রস্থানের কারণে এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের প্রায় ৪৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ বিপুল অংকের ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রযোজকরা প্রথমে ‘প্রডিউসার্স গিল্ড অব ইন্ডিয়া’ এবং পরে চলচ্চিত্র ফেডারেশনের দ্বারস্থ হন।
এফডব্লিউআইসিইর নিষেধাজ্ঞা
এ বিরোধের জেরে ‘ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ’ (এফডব্লিউআইসিই) রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রণবীরকে আলোচনার জন্য বারবার চিঠি পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। উল্টো অভিনেতার পক্ষ থেকে মেইল করে জানানো হয় যে এ বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার ফেডারেশনের নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে এফডব্লিউআইসিই রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে একটি ‘অসহযোগিতা নির্দেশিকা’ জারি করে, যা কার্যত এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে ফেডারেশনের আওতাধীন ৩২টি সংগঠনের কোনো টেকনিশিয়ান বা ক্রু মেম্বার রণবীরের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন না।
সমঝোতার চেষ্টা ও সালমান খান
বিতর্ক চরম আকার ধারণ করলে রণবীর সিংয়ের পক্ষ থেকে এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টকে নগদ ১০ কোটি টাকা এবং ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে অন্য কোনো সিনেমায় ২৫ কোটি রুপি ডিসকাউন্টে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে ফারহান ও রিতেশ এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পুরো ৪৫ কোটি টাকাই অগ্রিম দাবি করেছেন। এরই মধ্যে গুঞ্জন উঠেছিল যে অভিনেতা সালমান খান এ দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে এসেছেন। তবে গতকাল হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন জানায়, সালমান খান এ বিতর্কে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি।
‘ডন-৩’-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এ জটিলতা বলিউডের চুক্তিভিত্তিক পেশাদারত্ব এবং তারকাদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে যেখানে প্রযোজকদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি ও পেশাদার সময় নষ্টের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে অভিনেতার পক্ষ থেকে চিত্রনাট্যের ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর এ কঠোর অবস্থান রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ার এবং তার আসন্ন প্রজেক্ট যেমন ‘প্রলয়’ বা ‘ধুরন্ধর’-এর ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। আইনি লড়াই কিংবা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে এটি বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি পেশাদার দ্বন্দ্ব হিসেবে থেকে যাবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া










