আগের অ্যালবামের ব্যক্তিগত আবেগ থেকে বেরিয়ে এসে এবার তিনি তাকিয়েছেন বাইরের পৃথিবীর দিকে। সম্পর্ক, দূরত্ব, স্মৃতি আর সময় সবকিছুই জায়গা পেয়েছে এ অ্যালবামে।
২০২৩ সালে ‘পেইন্ট মাই বেডরুম ব্ল্যাক’ দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন হলি হাম্বারস্টোন। সে অ্যালবামে ছিল তার একান্ত ভেতরের গল্প। নিজের ভয়, দুশ্চিন্তা আর অনুভূতির কথা বলেছিলেন তিনি।
নতুন অ্যালবাম ক্রুয়েল ওয়ার্ল্ডে সে ধারার পরিবর্তন দেখা যায়। এবার তিনি নিজের বাইরের পৃথিবীকে তুলে ধরেছেন। এখানে আছে বিচ্ছেদ, আছে দূরত্বের সম্পর্ক, আছে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা।
অ্যালবামের বড় বৈশিষ্ট্য গানের বৈচিত্র্য। প্রতিটি গান যেন আলাদা রঙে আঁকা। ‘রেড চেভি’ শীর্ষক গানে আছে নস্টালজিক আবহ। ‘ব্লু ড্রিম’ গানটি একটু স্বপ্নময়। এটি চিন্তা ও উপলব্ধির গভীর পরিবর্তন ঘটায়। ‘পিচাই’ গানে আছে মৃদু বিষণ্ণতা।
‘লাকি’ গানটি বিশেষভাবে আবেগঘন। এখানে হলুদ রঙ হয়ে ওঠে শৈশবের প্রতীক। বোনদের প্রতি ভালোবাসা ফুটে ওঠে গানে। অন্যদিকে ‘টু লাভ সামবডি’ গানে সবুজ পৃথিবী যেন ভালোবাসার ছন্দ ও আনন্দের দেখা পাওয়া যায়।
‘হোয়াইট নয়েজ’ গানে হাম্বারস্টোন ভিন্ন এক অনুভূতি তুলে ধরেছেন। তিনি ক্লান্ত। অতিরিক্ত উত্তেজনায় ভুগছেন। তবুও তিনি ভিড়ের মাঝেই শান্তি খুঁজছেন। গানটিতে কান্ট্রি ঘরানার (সহজ সুরে জীবনের গল্প বলা) ছোঁয়া আছে।
সাউন্ডের দিক থেকেও অ্যালবামটি সমৃদ্ধ। লাইভ ইনস্ট্রুমেন্ট ও ইলেকট্রনিক সাউন্ডের মিশ্রণ দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন শিল্পী। এতে তার সংগীত আরো গভীর হয়েছে।
অ্যালবামের শুরু ‘সো ইট স্টারস’ গান দিয়ে। ছোট একটি ইনস্ট্রুমেন্টাল ট্র্যাক। কিন্তু এতে তৈরি হয় সিনেমাটিক আবহ। সে সুর এগিয়ে যায় ‘মেইক ইট অল বেটার’-এ।
শেষ গান ‘বিউটি পিজান্ট’ অ্যালবামকে সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করে। এতে ব্যবহার হয়েছে ফরাসি প্রেমের গানের স্যাম্পল। এতে একটি নস্টালজিক অনুভূতি তৈরি হয়।
পুরো অ্যালবামে হলি হাম্বারস্টোন আত্মবিশ্বাসী। তার কণ্ঠে আছে কোমলতা। আবার আছে শক্তিও। এ অ্যালবামে তিনি নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পেয়েছেন। নিজের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন বৃহত্তর পৃথিবীর গল্প বলছেন। ক্রুয়েল ওয়ার্ল্ড তাই শুধু একটি অ্যালবাম নয়। এটি একজন শিল্পীর বেড়ে ওঠার গল্প।
সূত্র: এপি










