গত বছর মুক্তিপ্রাপ্ত লিভিং নেভারল্যান্ড নামের একটি প্রামাণ্যচিত্রে দুই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের দ্বারা শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তারা। এমনকি ২০১৪ সালে এমন অভিযোগ তুলে এ দুই ব্যক্তি মামলা পর্যন্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় তাদের মামলার সে আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন আদালত। তবে পুরনো একটি আইন সংশোধন হওয়ার ফলে এবার তারা মাইকেল জ্যাকসনের কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি পেলেন। গত শুক্রবার এ-সম্পর্কিত একটি রুল জারি করেন আদালত।
পুরনো আইন অনুযায়ী, শৈশবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, এমন কোনো ব্যক্তি যদি কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে চান, তাহলে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী তাকে অবশ্যই নিজের বয়স ২৬ বছর পেরোনোর আগে তা করতে হবে। কিন্তু অভিযোগকারী দুই ব্যক্তি ওয়েড রবসন ও জেমস সেফচাক যখন মামলা করেছিলেন, তখন তাদের বয়স ২৬ বছর পেরিয়ে গিয়েছিল। এ কারণেই তখন তাদের মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। তবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি এ আইন সংশোধন করে ২৬ থেকে বাড়িয়ে ৪০ বছর বয়স করা হয়। এ কারনে রবসন ও সেফচাকের আবেদনটি মঞ্জুর করে জ্যাকসনের কোম্পানি এমজিজি প্রডাকশনস ও এমজিজি ভেঞ্চারের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দেন আদালত।
এদিকে মামলা করার সুযোগ পেয়ে রবসন ও সেফচাক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে জ্যাকসন স্টেটের আইনজীবী হাওয়ার্ড ওয়েজম্যান আবার স্পষ্ট ভাষায় মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে ওঠা শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেন।
লিভিং নেভারল্যান্ড প্রামাণ্যচিত্রে রবসন ও সেফচাক অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে যখন তাদের বয়স যথাক্রমে সাত ও ১০ বছর, তখন জ্যাকসন তাদের ওপর এ নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। প্রামাণ্যচিত্রটিতে দাবি করা হয়, জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে জ্যাকসনের যে ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল, তিনি তা ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া তারকাদের ঘিরে শিশুদের মনে যে ধরনের ফ্যান্টাসি তৈরি হয়, মাইকেল জ্যাকসন ছলচাতুরীর অবলম্বন করে তার অপব্যবহার করতেন। যদিও জ্যাকসনের পরিবারের পক্ষ থেকে বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটি প্রযোজনা করে এইচবিও ও চ্যানেল ফোর।
২০০৯ সালের ২৫ জুন মাইকেল জ্যাকসন ৫০ বছর বয়সে মারা যান। ওষুধের অতিরিক্ত বা ভুল প্রয়োগে এ পপ সম্রাট মারা যান বলে অভিযোগ আছে।
সূত্র: ইনসাইডার ও বিবিসি










