বাইরে থেকে দেখতে মনে হবে মালয়ালম সিনেমার জন্য ২০২৪ অসাধারণ একটা বছর ছিল। এ বছর মুক্তি পেয়েছে ‘মনজুম্মেল বয়েজ’, ‘আদুজীবিতম’, ‘প্রেমালু’, ‘এআরএম’ ও ‘আভেশাম’-এর মতো সিনেমা। এর প্রতিটিই আলোচিত। বক্স অফিসেও আশার তুলনায় বেশি আয় করেছে। কিন্তু মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির প্রযোজকরা জানাচ্ছেন, এ বছর তাদের একদমই ভালো যায়নি। সারা বছর ১৯৯টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যার মধ্য থেকে কেবল ২৬টি সিনেমা বক্স অফিসে উতরে গেছে। এবার তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি রুপি।
সম্প্রতি মালয়ালম সিনেমার প্রযোজকদের সংস্থা কেরালা ফিল্ম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে তারা জানায়, এ বছর মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রি সিনেমা নির্মাণে খরচ করেছে ১ হাজার কোটি রুপি। সিনেমা মুক্তির পর বক্স অফিস থেকে আয় হয়েছে ৩০০ কোটি রুপির মতো। অর্থাৎ এ বছর তাদের সিনেমা থেকে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি রুপি। এর একমাত্র কারণ সিনেমাগুলো বক্স অফিসে আয় করতে পারেনি।
কিন্তু এত খরচ কেন হলো? মূলত সময়ের সঙ্গে সিনেমার নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। সবকিছুরই দাম চড়া। প্রপস থেকে লোকেশন—সবটায় নির্মাতাদের খরচ করতে হয় বেশি। এর মধ্যে আবার অভিনেতারাও পারিশ্রমিক বাড়িয়েছেন। ফলে সিনেমার বাজেট বেড়ে যাচ্ছে। ভিএফএক্সেও এখন খরচ করতে হয় বড় একটা অংক, যা খরচ করা হয় তা ফেরত আসবে কিনা এমন কোনো নিশ্চয়তা থাকে না।
এ বছর মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির মাত্র তিনটি সিনেমা ১০০ কোটি রুপি আয় করতে পেরেছে। এগুলো হলো মনজুম্মেল বয়েজ, আভেশাম, প্রেমালু, আদুজীবিতম ও এআরএম। এর মধ্যে মনজুম্মেল বয়েজ আয় করেছে ২৪২ কোটি রুপি।
মালয়ালম সিনেমা নিয়ে ভারত ও ভারতের বাইরে যথেষ্ট আলোচনা হয়। অনেক সিনেমাই দর্শকের পছন্দের তালিকায় উঠে আসে। কিন্তু সিনেমাগুলো বক্স অফিসে সফল হয় না। কেরালার প্রযোজকরা মনে করছেন, থিয়েটারে দর্শক ফেরানোর মতো সিনেমা নির্মাণে তাদের মনোযোগী হওয়া উচিত। বছরে ২০০ সিনেমা নির্মাণ বা মুক্তি কোনো কাজের কথা নয়। থিয়েটারে ভালো করবে এমন সিনেমাই এখন তাদের প্রয়োজন।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










