অভিনয় ও উপস্থাপনায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মাসুমা রহমান নাবিলা। নাটক, বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশনের নানা কাজে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। এবার বড় পর্দায় একেবারেই ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। কবি জীবনানন্দ দাশের কাল্পনিক নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমা ‘বনলতা সেন’-এ বনলতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
আগামী ঈদে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমা বনলতা সেন। সরকারি অনুদানের সহায়তায় সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। এ সিনেমার গল্পে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে জীবনানন্দ দাশের ভাবনা, চরিত্রের গভীরতা ও তার কাব্যিক জগতের আবহকে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি চরিত্রভিত্তিক সিনেমা নয়, বরং একটি সাহিত্যিক অনুভূতির চিত্রায়ণ।
বনলতা চরিত্রে অভিনয় করা নাবিলার জন্য সহজ ছিল না। শুরুতে তাকে সিনেমাটির অন্য একটি চরিত্রের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তবে নাবিলা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি বনলতা সেন চরিত্রটিই করতে চান। এরপর টানা তিন দফা অডিশনের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করে তিনি এ চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত হন। চরিত্রটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে বলেও জানান নাবিলা।
সিনেমায় কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রুপন্তী আকীদ, শরিফ সিরাজ ও সুমাইয়া খুশি। নির্মাতার দাবি, চরিত্রের বাস্তবতা ও গল্পের মান বজায় রাখতে কোনো ধরনের আপস করা হয়নি।
নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল বলেন, ‘জীবনানন্দ দাশের চরিত্র নিয়ে কাজ করা মানেই বড় দায়বদ্ধতা। গবেষণা, প্রস্তুতি ও সঠিক অভিনয়শিল্পী নির্বাচন পুরো প্রক্রিয়াটিকে কঠিন করে তুলেছিল। সিনেমার সময় কিছুটা বেশি লাগলেও মানের দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। একই ঈদে মুক্তি পাবে আরো কয়েকটি সিনেমা, যার মধ্যে রয়েছে প্রিন্স, দম, রাক্ষস, বনলতা এক্সপ্রেস ও পিনিক। ঈদের এ প্রতিযোগিতায় বনলতা সেন দর্শকের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে দর্শক মহলে।
নাবিলা জানান, বনলতা সেন চরিত্রে অভিনয় করা তার ছোটবেলার স্বপ্নের মতো। তিন দফা অডিশন ও চরিত্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার অভিজ্ঞতা তার অভিনয় জীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলেও তিনি মনে করেন।










