একটি ছোট মেয়ের জন্মদিনের ইচ্ছে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করবে। বাবার সঙ্গে সিওল থেকে ট্রেনে করে রওনা হয় সে। এক গর্ভবতী স্ত্রী ও তার স্বামী, একদল বেসবল খেলোয়াড়, ট্রেনের কর্মচারীসহ আরো অনেকেই রয়েছেন ট্রেনে। ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে একজন ভাইরাসে আক্রান্ত নারী উঠে পড়ে ট্রেনে। এরপর সেই নারীর সংক্রমণে একে একে ট্রেনের বিভিন্ন জন একই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পরিণত হয় জম্বিতে। শুরু হয় ট্রেনের মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বায়োটেক কোম্পানিতে লিকেজ হওয়ার পর এক ধরনের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পর পরই মানুষ জম্বিতে পরিণত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘ট্রেন টু বুসান’ নামের চলচ্চিত্রটি। সাধারণত জম্বি নিয়ে যে চমত্কার হরর থ্রিলার জনরা বানানো যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার এ চলচ্চিত্র তা প্রমাণ করেছে। আর মেয়ের প্রতি বাবার ভালোবাসা, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা, বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা, একই সঙ্গে অসহায়ত্ব, কিছু মানুষের স্বার্থপরতা ও সর্বোপরি ভয়ংকর রোমাঞ্চিত ট্রেন ভ্রমণ সবকিছুর এক সুন্দর মিশ্রণ রয়েছে ছবিটিতে। ছবির যে মুহূর্তটি সবাইকে আবেগী করে তুলবে তা হলো, যখন ছবির শেষ দিকে বাবা তার মেয়ের উদ্দেশে বলে, ‘আমি এখনো তোমার বাবা।’

চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী আবর্তিত জম্বি নিয়ে। মা-বাবার ডিভোর্সের পর সু-আন বাবার সঙ্গে থাকে। তবে জন্মদিনে মায়ের সঙ্গে দেখার করার আবদার করে। তাই বাধ্য হয়ে বাবা সিওক-উ মেয়েকে নিয়ে রওনা হয় বুসানের উদ্দেশে। তখনই সবাই ট্রেনেই খবর দেখতে পায় সারা দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাসের প্রভাবে জম্বি ছড়িয়ে পড়েছে। জম্বিরা সুস্থ মানুষকে কামড়ে দেয়ার পর সেই ভাইরাসের প্রভাবে সুস্থ মানুষও জম্বিতে পরিণত হচ্ছে। ট্রেনের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে জম্বিরা। তাদের প্রতিরোধ করে চলেছে কয়েকজন মিলে।

ট্রেন মাঝে কয়েকটি স্টেশনে থামার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। কারণ প্রতিটি স্টেশনেই জম্বিরা দখল নিয়েছে। এরপর খবর আসে শুধু বুসান শহরেই কোনো জম্বি নেই। তাই ট্রেন ছুটতে থাকে বুসানের উদ্দেশে। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই যা সর্বনাশ হওয়ার হয়ে যায়। ট্রেনের চালকও পরিণত হয় জম্বিতে। ট্রেনেও আগুন ধরে যায়। এর পরও সন্তানের প্রতি বাবার আর স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসার টান রেখে যায়।

১১৮ মিনিটের টান টান উত্তেজনার এ চলচ্চিত্রটি ২০১৬ সালে মুক্তি পায়। মুক্তির পর পরই দর্শক, সমালোচক সবার কাছ থেকে প্রশংসা পায় ছবিটি। ইয়ং সাং-হোর পরিচালনা ও লি ডং-হার প্রযোজনায় এ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন গং ইয়ো (সিওক-উ), কিম সু-আন (সু-আন), জুং ইউ-মি (গর্ভবতী স্ত্রী), মা ডং-সিওক (সাং-হুয়া), চই উ-শিক (ইয়ং-গুক/বেসবল খেলোয়াড়)। মাত্র সাড়ে ৮ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত চলচ্চিত্রটি সাড়ে ৯৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে। চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন পুরস্কারেও ভূষিত হয়। এছাড়া এ বছর আগস্টে ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তি ট্রেন টু বুসান প্রেজেন্ট ‘পেনিনসুলা’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।