বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব অজানা নয়। আশি ও নব্বইয়ের দশকে এদের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। মূলত দাউদ ইব্রাহিম অনেকটা প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলিউডে। নামে-বেনামে সিনেমায় টাকা ঢালার পাশাপাশি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভয়ভীতি দেখাতেও কসুর করতেন না। ওই সময়ই আমির খানের অভিষেক হয় বলিউডে। মনসুর খানের ‘কায়ামত সে কায়ামত তাক’ দিয়ে অভিষেক হয় তার। কাছাকাছি সময়ে তাকে একটি পার্টিতে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন অপরাধ জগতের এক প্রভাবশালী। কিন্তু আমির খান সরাসরি তাকে প্রত্যাখ্যান করেন।

কায়ামত সে কায়ামত তাক দিয়েই সুপারস্টার বনে যান আমির। এরপর তার কাছে মুম্বাইয়ের অপরাধ জগতের হাত আসা ছিল সময়ের ব্যাপার। দুবাইয়ে একটি পার্টিতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল আমিরকে। এ নিয়ে আমির বলেন, ‘আমি তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। সম্ভবত দুবাইয়ে তারা আমাকে একটা আয়োজনে উপস্থিত হতে বলেছিল।’

ওই সময় বলিউডের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন দাউদ ইব্রাহিম। সম্ভবত তার কাছ থেকেই নিমন্ত্রণ এসেছিল। তবে আমির বলেন, তার কার কাছ থেকে আমন্ত্রণ এসেছিল, তা তিনি বলতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমি নাম নিতে পছন্দ করি না। আমার স্বভাবে নেই।’

কিন্তু তিনি সরাসরি সে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, ‘নিতে হলে আমাকে তুলে নিয়ে যেতে হবে। স্বেচ্ছায় আমি যাব না।’

ল্যালানটপের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওরা অনেক চেষ্টা করেছিল। আমাকে প্রথমে অর্থের লোভ দেখায়। এরপর আমার পছন্দের যেকোনো বিষয়ে তারা সাহায্য করার কথা দেয়। আমি তার পরও মানা করেছিলাম। এরপর তাদের স্বর বদলে যায়। তারা জানায় যে আমাকে যেতেই হবে, কেননা এটা তাদের জন্য প্রেস্টিজ ইস্যু। তারা এরই মধ্যে অতিথি তালিকায় আমার নাম ঘোষণা করে রেখেছে।’

এক মাস ধরে তারা চেষ্টা করছিল। আমিরের কাছে যিনি প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন, তাকে আমির বলেছিলেন, ‘আপনি এক মাস ধরে আমার কাছে আসছেন। শুরুর দিনই আমার সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। আপনাদের অনেক ক্ষমতা আছে। যা খুশি করতে পারেন। কিন্তু আবারো বলছি, স্বেচ্ছায় আমি যাব না। এরপর তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।’

আমির জানান, তিনি না করলেও মনে মনে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট দুটো সন্তান ছিল। বারবার মনে হতো ওদের কোনো ক্ষতি করে দেয় কিনা। বাইরে গেলে দুশ্চিন্তা হতো। আমার কাছের ব্যক্তিদের নিরাপদ রাখা আমার দায়িত্ব।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস