বিলি আইলিশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গায়িকা ও গীতিকার। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির তীব্র সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহে আটলান্টায় মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ‘বিলাভড কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড ফর এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস’ গ্রহণ করার সময় বিলি আইলিশ নাগরিক অধিকার ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন।
আমেরিকান ম্যাগাজিন ও মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘রোলিং স্টোন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কিং সেন্টারে দেয়া বক্তৃতায় আইলিশ বর্তমান ফেডারেল নেতৃত্বের অধীনে পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ ও বিশ্ব পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে পরিবেশগত ন্যায়ের জন্য কাজ করার স্বীকৃতি পাওয়া খুবই অদ্ভুত লাগে। কারণ সময়টি ভালো নয়, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এ পুরস্কার কম অর্জনযোগ্য মনে হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখছি আমাদের প্রতিবেশীদের অপহরণ করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালানো ও তাদের হত্যা করা হচ্ছে। নাগরিক অধিকারও কেড়ে নেয়া হচ্ছে। জলবায়ু সংকট মোকাবেলার সম্পদ কমিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা আর মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে থাকছে না। বরং ধনীদের বিশেষাধিকার হয়ে উঠছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় নিজের ঘর ও রাস্তায় আর নিরাপদ বোধ করি না’।
এর আগেও বিভিন্ন পুরস্কার মঞ্চে সামাজিক ইস্যুতে কথা বলেছেন আইলিশ। গত অক্টোবরে ডব্লিউএসজে ইনোভেটর অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে তিনি ধনীদের সম্পদ পুনর্বণ্টনের আহ্বান জানান। একই সন্ধ্যায় তার ট্যুর থেকে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার দাতব্য অনুদান দেয়ার ঘোষণাও দেয়া হয়।
তবে কাজের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে আইলিশ তার বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
আইলিশের বক্তব্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে একজন শিল্পীর জীবন শুধু গান আর মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নয়—নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদ করাও তার নৈতিক দায়িত্ব।
সূত্র ও ছবি : ভ্যারাইটি










