গতকাল বঙ্গতে মুক্তি পায় টানটান উত্তেজনায় ভরপুর থ্রিলার ‘ফ্যাঁকড়া’। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন আসিফ চৌধুরী এবং প্রযোজনায় ওয়াটার লিলি পিকচারস। ফ্যাঁকড়ার মুক্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় বুধবার। এতে সাংবাদিকসহ সিরিজটির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন। ফ্যাঁকড়া ভালোবাসা, প্রতিশোধ আর বাঁচার লড়াইয়ের গল্প। একদল যুবক তাদের প্রিয়জনকে বাঁচাতে একটি ডাকাতির পরিকল্পনা করে। কিন্তু সে পরিকল্পনা শেষ হয় এক অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর মাধ্যমে। নিহত নারীর স্বামী শুরু করেন অপরাধীদের খুঁজে বের করার এক নির্মম অভিযান। অন্যদিকে অপরাধীরা ছুটতে থাকে তাদের এক সদস্যকে বাঁচানোর চেষ্টায়। প্রতিটি পদক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে আরো বিপদে, বিভ্রান্তি আর দুর্বলতায়।

শ্যামল মাওলা, নিশাত প্রিয়ম, সারা আলম, পার্থ শেখ, নিদ্রা দে নেহা, মীর রাব্বি, আবদুল্লাহ আল সেন্টু, হাসনাত রিপন, সমু চৌধুরী, এ কে আজাদ সেতু ও কোয়াজি আবরার হাসানের অতুলনীয় অভিনয় দর্শককে প্রতিটি চরিত্র গভীরভাবে অনুভব করাবে। প্রতি চরিত্রের রয়েছে নিজস্ব পরিচয়, যা গল্পকে করে তুলেছে আরো জীবন্ত ও বাস্তব।

এ সিরিজের নির্মাতা আসিফ চৌধুরী নির্মাণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, ‘সাত পর্বের ওয়েব সিরিজটির শুটিং হয় গত বছরের আগস্টে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন অস্থির। কারফিউ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ি, সরকারের পতন—এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকা-মানিকগঞ্জ আর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৩ দিন শুটিং করতে গিয়ে যা হয়েছে, চাইলে সেটা নিয়েই একটা তথ্যচিত্র বানিয়ে ফেলা যায়।’

আসিফ জানান, ‘২০২৩ সালের দিকে সিরিজটির পরিকল্পনা হয়। ইচ্ছা ছিল সীমিত বাজেটে স্বাধীনভাবে এটি তৈরি করার। পরে প্রকল্পটিতে যুক্ত হয় ওটিটি প্লাটফর্ম বঙ্গ। সাত পর্বের ফ্যাঁকড়া মূলত সম্পর্কের গল্প। বলা যায়, ভালোবাসার মানুষের জন্য একজন কী করতে পারে, সেটাই সিরিজের মূল সুর। তিনি বলেন, ‘অনেক সিনেমা বা সিরিজ চরিত্রনির্ভর হয়ে থাকে, তবে আমরা গল্পে বেশি জোর দিয়েছি। এখানে কেউই নায়ক নয়, সবাই গল্পের অংশ। ছয়-সাতটি প্রধান চরিত্র আছে, যাদের সবারই আছে একটি বিশেষ ‘‘অতীত’’। শেষ পর্যন্ত তারা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়, সেটিই দেখবে দর্শক।’

গত সপ্তাহেই এসেছে সিরিজটির ৫০ সেকেন্ডের টিজার। ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘ভুলে মৃত্যু, পিছু নেয় প্রতিশোধ। সময় চলছে, পালানোর নয়!’

সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন শ্যামল মাওলা। এ সিরিজ নিয়ে তিনি জানান, সিরিজের পুরোটা গল্প তার কাছে রোমাঞ্চকর মনে হয়েছে, এজন্য রাজি হতে দ্বিধা করেননি। অভিনেত্রী নিদ্রা দে নেহার বলেন, ‘ওয়েব সিরিজটির গল্প অসাধারণ। এখানে আমার নাম গোলাপি। বলা যায়, নামটি শুনেই সিরিজটিতে অভিনয়ের জন্য রাজি হয়েছি। প্রেমের জন্য অপরাধ ও ভুলের পরিণতি, সেখানে কতগুলো মানুষ জড়িয়ে পড়ে। এমন গল্পই পর্দায় দেখিয়েছেন নির্মাতা। অবশেষে সিরিজটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে ভেবে ভালোই লাগছে। চেষ্টা করেছি গোলাপি চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে। কতটুকু পেরেছি, দর্শক তা ভালো বলতে পারবে।’

সিরিজে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে নিদ্রা দে নেহা জানান, এ সিরিজে তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন রাতের খাবার খেতে গিয়ে! তিনি বলেন, ‘একবার আমি, প্রান্তর (দস্তিদার, নিদ্রার স্বামী), নির্মাতা আসিফ ভাই আর পার্থ (শেখ) ডিনার করছিলাম। আসিফ ভাই আমার খাওয়া দেখেই বলেন, ‘‘তুমিই আমার সিরিজের গোলাপি হতে পারবে। সিরিজে গোলাপি গ্রামের মেয়ে।’’ আমার খাওয়ার মধ্যে কোথাও একটা সারল্য ছিল, সেটাই হয়তো তার মনে ধরেছে। পরে চিত্রনাট্য পাই, সিরিজটির সঙ্গে যুক্ত হই।’