বিশ্ব ফ্যাশন জগতের এক অনন্য নক্ষত্র নিভে গেল। ইতালির কিংবদন্তি ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভ্যালেনটিনো ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেনটিনো গারাভানি সোমবার রোমে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। পরিবার ও প্রিয়জনদের ঘিরে রেখেই তার প্রস্থান ঘটে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে তার ফাউন্ডেশন।
১৯৩২ সালের ১১ মে ইতালির ভোগেরা শহরে জন্ম নেয়া ভ্যালেনটিনো ছোটবেলা থেকেই শিল্প ও সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। প্যারিসে ফ্যাশন শিক্ষার পর ১৯৬০ সালে ব্যবসায়িক অংশীদার জিয়ানকার্লো জামেত্তির সঙ্গে রোমে তিনি ভ্যালেনটিনো ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার নকশা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। বিশেষ করে উজ্জ্বল লাল রঙের প্রতি তার ভালোবাসা থেকেই জন্ম নেয় ‘ভ্যালেনটিনো রেড’, যা আজও বিলাসী ফ্যাশনের প্রতীক।
রোমান্টিকতা ও সাহসী হাই-ফ্যাশনের মেলবন্ধনে তৈরি তার পোশাক দ্রুতই হলিউড ও রাজনীতির অভিজাত নারীদের মন জয় করে। এলিজাবেথ টেইলর ১৯৬০ সালে স্পার্টাকাস সিনেমার প্রিমিয়ারে ভ্যালেনটিনোর গাউন পরেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি জ্যাকলিন কেনেডি ১৯৬৩ সালে স্বামী হত্যার পর শোকাবহ সময়ে পরার জন্য তার কাছ থেকে ছয়টি ‘বিশেষ নকশার পোশাক’ অর্ডার দেন। ১৯৬৮ সালে অ্যারিস্টটল ওনাসিসকে বিয়ের সময় কেনেডির আইকনিক বিবাহের পোশাকটিও ছিল ভ্যালেনটিনোর নকশা।
সত্তর ও আশির দশকে ব্র্যান্ড প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ভ্যালেনটিনো হয়ে ওঠেন হলিউডের প্রিয় ডিজাইনার। ডাইনাস্টি তারকা জোয়ান কলিন্স থেকে শুরু করে গুইনেথ প্যালট্রো, অ্যান হ্যাথাওয়ে, জেনিফার লোপেজ ও নিকোলা পেল্টজ বেকহ্যামের বিয়ের পোশাক পর্যন্ত তার তৈরি। আজও জুলিয়া রবার্টস, কেট ব্ল্যানচেট, জেন্ডায়া ও ফ্লোরেন্স পিউয়ের মতো তারকারা রেড কার্পেটে ভ্যালেনটিনো পরেন।
ভ্যালেনটিনো শুধু ফ্যাশনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ২০০৬ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র দ্য ডেভিল ওয়েয়ার্স প্রাডায় তিনি নিজ চরিত্রে উপস্থিত হন। ২০০৮ সালে অবসর নেয়ার পর তার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ভ্যালেনটিনো: দ্য লাস্ট এম্বেরর’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।
নিজের কাজ সম্পর্কে তিনি একবার বলেছিলেন, ‘পোশাক তৈরি করাই আমার জীবনের সেরা কাজ। বাকি সবকিছুতে আমি একেবারেই অগোছাল।’ সৌন্দর্য, শৈল্পিকতা ও চিরন্তন আভিজাত্যের যে উত্তরাধিকার তিনি রেখে গেলেন, তা ফ্যাশনের ইতিহাসে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান










