ভারতের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বিষয়টা এখন পরিণত হয়েছে ‘দক্ষিণ ভারত বনাম বলিউড’-এ। দক্ষিণ ভারতের চার ইন্ডাস্ট্রি (তামিল, তেলেগু, মালয়ালম ও কন্নড়) বলিউডের তুলনায় ভালো করছে সিনেমায়। কেবল বক্স অফিস না, সিনেমার মানের দিক থেকেও তারা এগিয়ে আছে বলে সমালোচকরাও মনে করছেন। প্রতি বছর বেশকিছু সিনেমা এ চার ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসে, যেগুলোকে ‘শৈল্পিক’ তকমা দেয়া যায়। আর বাণিজ্যিক দিক থেকে দেখলে গত বছর সেরা ১০ সিনেমার ছয়টিই ছিল দক্ষিণ ভারতের। মোট আয় ছিল ৪ হাজার কোটি রুপির বেশি।
হিন্দি সিনেমা মূলত ২০২১ সাল থেকে সংকটাপন্ন। ব্যবসায়িক দিকে তো পিছিয়ে আছেই, অন্যদিকে বছরে তাদের দু-তিনটি শৈল্পিক সিনেমা আসে না বললেই চলে। অনেকে তো বলতে চান ‘বলিউড পথ হারিয়েছে’। যেমন পুষ্পা সিনেমা সিনেমার সাউন্ড ডিজাইনার রেসুল পুকুটি বলতে চান অতিমারীর পর হিন্দি সিনেমা নিজেকে এমন একটা ধারায় নিয়ে গেছে, যেখানে কোনোকিছুই স্থির নয়। এখন ইন্ডাস্ট্রির দুরবস্থার কারণ এটিই। তারা কোনো টেকসই পরিকল্পনা নেয়নি।

সম্প্রতি জুমকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রেসুল। তার মতে, অতিমারীর সময় ইন্ডাস্ট্রি (বলিউড) ভীত হয়েছিল অকারণে। তারা বেশকিছু সিনেমা মুক্তি দিয়েছে ওটিটিতে। এসব সিনেমা মুক্তি দেয়া যেত থিয়েটারেই। দক্ষিণ ভারত তেমন করেনি। রেসুল বলেন, ‘যখন অতিমারী এল দক্ষিণ ভারতের ইন্ডাস্ট্রি ভয় পায়নি। কিন্তু বলিউড ভয় পেয়ে তাদের সবকিছু বিক্রি করে দিল নানা প্লাটফর্মে। এরপর অবস্থা এমন হলো যে তারা দুটো প্লাটফর্মের কাছে বন্দি। এমনও হয় যে এ দুটো প্লাটফর্ম রাজি না হলে সিনেমা নির্মাণ হয় না। অন্যদিকে দক্ষিণ ভারত কখনো ওটিটিতে সিনেমা বিক্রি করতে চায় না। তারা অপেক্ষা করে সিনেমা থিয়েটারেই মুক্তি দেয়।’
পুষ্পা প্রথম পর্বকেই উদাহরণ হিসেবে এনেছেন রেসুল। পুষ্পা মুক্তি পাওয়ার সময় থিয়েটারে নানা রকম বিধিনিষেধ ছিল। কোনো থিয়েটারে শতভাগ দর্শক বসার অনুমতি ছিল না। এর পরও সিনেমাটি ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছিল। এ নিয়ে রেসুল বলেন, ‘পুষ্পা যখন মুক্তি পায়, থিয়েটারে তখন ৪০ শতাংশ দর্শক বসার অনুমতি ছিল। এর পরও সিনেমাটি ১২০ কোটি রুপি আয় করে হিন্দিতে। এমনকি ওটিটিতে মুক্তি পাওয়ার পরও থিয়েটারে চলেছে পুষ্পা। লোকে তো দেখতে গেছে সেখানে।’
এ সময় অনেকে বলে থাকেন দর্শকের রুচি বদলে গেছে। তারা সব রকম সিনেমা দেখতে চান না। কিন্তু রেসুল মনে করেন আদতে দর্শকের কিছু হয়নি। তারা আগের মতোই আছে। ইন্ডাস্ট্রি দর্শককে বুঝতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘দর্শকের কোনো সমস্যা নেই। দর্শক বদলেও যায়নি। আসলে বলিউড তার দর্শককে উপযুক্ত সিনেমা উপহার দিচ্ছে না। দর্শক থিয়েটারে গিয়ে সিনেমা দেখতে চান। তাদের ভালো সিনেমা দিলে তারা দেখবেন। বলিউড একটা টেকসই পরিকল্পনার অভাবে দুরবস্থায় পড়েছে।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










