শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় শার্ক আমন গুপ্ত। তিনি আজ স্টার্টআপ দুনিয়ার এক পরিচিত মুখ। কিন্তু কোটি টাকার বিনিয়োগ ও সফলতার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে তার দীর্ঘ সংগ্রাম, একাধিক ব্যর্থতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের গভীর ট্র্যাজেডি।

নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা আমন নিজের শৈশবকে স্মরণ করে বলেন, ‘আমার শৈশবটা মজার ছিল। আমি ছিলাম একেবারে হারিয়ে যাওয়া মানুষ, কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। প্রায়ই বন্ধুদের অনুকরণ করতাম।’

স্কুলশিক্ষিকা মা ও সেলসম্যান বাবার সংসারে অর্থাভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। যৌথ পরিবারে এক কামরার ঘরে চলত তাদের জীবন। তার স্টার্টআপ বোটের শুরুর দিকে ওয়ারবার্গ পিনকাস থেকে বিনিয়োগ পাওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনে বড় মোড় এনে দেয়। সে অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আমান বলেন, ‘যখন ওয়ারবার্গ থেকে ফান্ডিং পেলাম, ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল “‍ওয়াও, টাকা এসে গেছে, এবার তো মজা!’’ কারণ জীবনে এত টাকা আগে কখনো দেখিনি।’ তিনি জানান, টাকা আসার পর বারবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেখতেন, এমনকি এতটাই দেখতেন যে তাদের ব্যাংকার একদিন বাড়িতে এসে খোঁজ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

হঠাৎ পাওয়া আর্থিক সাফল্য তার জীবনযাপনেও বদল আনে। আমন বলেন, ‘আমি পাগলের মতো টাকা খরচ করেছি। বিজনেস ক্লাসে উড়েছি, সেরা হোটেলে থেকেছি, বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছি। কিন্তু এক বছর পর বুঝতে পারি এ জীবনযাপনও একসময় আমাকে বিরক্ত করতে শুরু করে।’

তার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা আসে ভাইকে হারানোর পর। তিনি বলেন, ‘সুখী থাকাই এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।’ শাহরুখ খানের সংলাপ উদ্ধৃত করে যোগ করেন, ‘হাসো, বাঁচো, মুচকি হাসি নিয়ে থাকো—কে জানে কাল আদৌ থাকবে কিনা।’

তার কথায়, ‘জীবন কখন শেষ হয়ে যাবে, কেউ জানে না।’

বোট সফল হওয়ার আগে আমন প্রায় পাঁচটি স্টার্টআপে ব্যর্থ হন। দীর্ঘ সময় তার জীবিকা নির্ভর করেছিল স্ত্রী প্রিয়ার ওপর। আমন বলেন, ‘৪০ বছর বয়স পর্যন্ত আমার রোজগার পুরোপুরি স্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল ছিল। আমি রাত জেগে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি।’

আজ তার সাফল্য শুধু টাকার অংকে নয়, বরং জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে, যেখানে অর্থের চেয়েও সুখ অনেক বেশি মূল্যবান।

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস