আজ থেকে ৩০ বছর আগের কথা। ১৯৯৫ সালের ২০ অক্টোবর, দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে (ডিডিএলজে) বদলে দিয়েছিল বলিউডের প্রেমের সংজ্ঞা। মাত্র ২৩ বছর বয়সে আদিত্য চোপড়ার পরিচালনায় তৈরি এ সিনেমা দর্শকদের উপহার দিয়েছিল রাজ ও সিমরন—দুই চরিত্র, যারা হয়ে উঠেছিল ভালোবাসা, প্রতিবাদ এবং সুখী পরিণতির প্রতীক। আজকে তিন দশক পরও সিনেমাটি তুমুল জনপ্রিয়। প্রতিদিন চলছে মুম্বাইয়ের মেরাঠা মন্দির প্রেক্ষাগৃহে এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে তার জাদু ও আকর্ষণ অটুট আছে।
চলচ্চিত্র সমালোচক ও লেখক অনুপমা চোপড়ার বই দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে: দ্য মেকিং অব আ ব্লকবাস্টার-এ উল্লেখ আছে, আদিত্য প্রথমে এ চরিত্রে টম ক্রুজকে চেয়েছিলেন। তখন তিনি চেয়েছিলেন চলচ্চিত্রটিকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে। মনে করেছিলেন টম ক্রুজ থাকলে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক মাত্রা পাবে।
তবে তার বাবা কিংবদন্তি নির্মাতা যশ চোপড়া হস্তক্ষেপ করেন। তিনি ছেলেকে পরামর্শ দেন গল্পটি নতুনভাবে লেখার, যাতে এটি হয় দুই প্রবাসী ভারতীয়ের প্রেমের গল্প।
সিমরনের চরিত্রে অভিনয় করা কাজলও তথ্যটি পরে নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আদিত্য প্রথমে টম ক্রুজকেই নিতে চেয়েছিলেন। প্রতিটি পরিচালকই তার কল্পনায় কিছু স্বপ্নের অভিনেতা রাখে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবে ফিরতে হয় এবং ভাবতে হয় ‘আমাদের দেশের অভিনেতাই নেয়া যাক।’
শাহরুখ খান প্রথমে সিনেমারটির প্রস্তাব চারবার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, এটি আজ কল্পনাও করা যায় না। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় তিনি ডর, বাজিগর ও অঞ্জাম-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্র বা গাঢ় আবহের চরিত্রে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। প্রেমের গল্পে তার আগ্রহ ছিল না; বরং তিনি মনে করতেন রোমান্টিক নায়ক হওয়া মানে ‘চকলেট বয়’ ট্যাগ পাওয়া, যা তার কাছে একঘেয়ে ছিল। তিনি আদিত্যকে বলেছিলেন, তিনি অ্যাকশন বা থ্রিলার ঘরানার চরিত্রেই স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু আদিত্য হাল ছাড়েননি। কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি শাহরুখের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেন এবং বোঝান, এ সিনেমা অন্যরকম—এটি এমন এক প্রেমকাহিনী, যা প্রজন্মের চিন্তাভাবনাই বদলে দেবে।
অবশেষে শাহরুখ রাজি হন, যদিও খানিকটা অনিচ্ছাসহকারে। পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম চরিত্রটা খুব মিষ্টি ধরনের। আমি রোমান্টিক হিরো হতে চাইনি। কিন্তু আদিত্যর বিশ্বাস ছিল আমার ওপর, আর আমি খুশি যে আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম।’
সিনেমাটি মুক্তির পর শুধু শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারই বদলায়নি, বদলে গিয়েছিল বলিউডের রোমান্সের ধারা। সিনেমাটি বক্স অফিসে শতকোটিরও বেশি আয় করেছিল, যা নব্বইয়ের দশকে ছিল এক বিরল ঘটনা। সিনেমাটি বহু পুরস্কার জেতে, যার মধ্যে ছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।
এ সিনেমাই শাহরুখকে এনে দেয় ‘কিং অব রোমান্স’ উপাধি। তার সংলাপগুলো হয়ে ওঠে কালজয়ী, হয়ে ওঠে দর্শকদের হৃদয়ের অংশ।
সূত্র: ইয়ন










