গতকাল প্রথম আলোর আয়োজনে ‘জুলাই জাগরণ’ নামে গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে এক ভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ২৪ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ও ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ প্রদর্শনী কিউরেট করেছেন শিল্পী আনিসুজ্জামান সোহেল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘প্রথম আলোকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ। ইতিহাস সবসময় বিকৃত হয়। এ আয়োজনগুলো আমাদের সাক্ষ্যপ্রমাণগুলোকে ধরে রাখবে। পরবর্তী সময়ে এ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও আন্দোলন চলাকালে কী ঘটেছিল, সেগুলো যাতে কেউ বিকৃত করতে না পারে তার একটা বড় সূত্র হিসেবে কাজ করবে।’
জুলাই আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন একটা অভূতপূর্ব ঘটনা। এটা জাতি সারা জীবন শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগের সঙ্গে স্মরণ করবে। দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করার জন্য যারা আত্মত্যাগ করে গেল, তাদের জন্য আমরা কী করতে পারি সেটা জাতিগতভাবে একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন ২০২৪ আমাদের অন্তরে ভয়ংকর চিত্র রেখে গেছে। আমি ৭১ দেখেছি এবং ২০২৪ দেখেছি। ২০২৪-এ তাকালে বার বার আমার মন ৭১-এ চলে যায়। ১৯৭১-এ বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের ঘর ছেড়ে যুদ্ধে বেরিয়ে যেতে দেখেছি। বাড়িতে চিরকুট রেখে গেছে, ‘‘ডাক পড়েছে যুদ্ধে যাচ্ছি।’’ ২০২৪-এও সেই একই বয়সের ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের কাছে চিরকুট রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে।’
এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ‘স্বৈরাচারের পুরোটা সময় অনেক গণমাধ্যমের মতো প্রথম আলোর ওপর দিয়েও অনেক ঝড়ঝাপটা গেছে এবং সে ঝড়ঝাপটা প্রথম আলো যেমন সামলেছে, প্রথম আলোর পাশে থেকে আমরাও সাহস দেয়ার চেষ্টা করেছি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদর্শিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থানকালে প্রথম আলোর সাংবাদিকতাকে প্রদর্শনীতে প্রধান উপজীব্য করে তুলে ধরা হয়েছে। দর্শক এখানে দেখতে পাবে প্রথম আলোর আলোকচিত্রীদের তোলা বাছাই করা ছবি। ছাপা পত্রিকা ও অনলাইনের আলোচিত সংবাদ, অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদন, শিল্পকলা, প্রথম আলোর ক্রোড়পত্রসহ বিভিন্ন প্রামাণ্য উপকরণ থাকছে প্রদর্শনীতে।
একটি নির্দিষ্ট কক্ষে আছে অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, মাহমুদুর রহমান সৈকত, নাঈমা সুলতানা, শফিক উদ্দিন আহম্মেদ আহনাফ ও শিশু জাবির ইব্রাহীমের ব্যবহৃত পোশাক, বইপত্র, ক্রীড়াসামগ্রীসহ বিভিন্ন নিদর্শন। শহীদ আবু সাঈদের বীরত্বব্যঞ্জক দেহভঙ্গি নিয়ে শিল্পী শহীদ কবীর যে শিল্পকর্ম করেছেন, সে শিল্প সৃষ্টির একটি ভিডিও চিত্রও থাকছে প্রদর্শনীতে। থাকছে অভ্যুত্থান নিয়ে বইয়ের প্রকাশনা।
প্রদর্শনী উপলক্ষে বেশকিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জানুয়ারি থাকবে গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে চারটি বইয়ের প্রকাশনা ও আলোচনা। অতিথি থাকবেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠান হবে ২৭ জানুয়ারি।
গত ৫ আগস্ট সাভারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত বিশেষ ভিডিও উদ্বোধন করা হবে ২৯ জানুয়ারি। অতিথি থাকবেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ ও ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস। সমাপনী আয়োজন ৩১ জানুয়ারি থাকবে আহমেদ হাসান সানি ও কাকতালের গান।
জুলাই জাগরণ চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।










