শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান মোড়ে দেখা গেল এক অভিনব আয়োজন। পর্দায় একের পর এক প্রদর্শিত হচ্ছে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন-সংগ্রামের নানা ভিডিওচিত্র। ফুটপাতে এ ভিডিওচিত্র দেখতে ভিড় জমান সব বয়সী মানুষ।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে মাসজুড়ে চলা আন্দোলন সংগ্রামে মারা গেছেন প্রায় দুই হাজার বিভিন্ন বয়সের, শ্রেণীপেশার মানুষ। এ আন্দোলনে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে সময়ে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হতে থাকে আন্দোলনের বিভিন্ন ফুটেজ। সেসব ফুটেজ সংগ্রহ করে স্টোরিটেলিং প্লাটফর্ম ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজ। সেই সংগৃহীত ভিডিওগুলো দিয়ে শুরু হয় তাদের আয়োজন ‘দ্রোহ-কান্নার জুলাই’।
রংপুরে আবু সাইদের গুলি খাওয়ার দৃশ্য দিয়ে শুরু হয় প্রদর্শনী। একে একে আন্দোলনের দিনগুলোতে হওয়া নানা ঘটনাপ্রবাহ উঠে আসে ভিডিওতে। ‘কোটা না মেধা? মেধা মেধা’ স্লোগানের দিনগুলোতে ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা। তারপর দেখা যায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনীর হামলার দৃশ্য। নারী শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য শিক্ষার্থীর ওপর রক্তাক্ত হামলার দৃশ্যগুলো উঠে আসে। সেসব হামলার পরও শিক্ষার্থীদের বুক উঁচিয়ে দাঁড়ানোর গল্প উঠে আসে প্রদর্শনীতে। তারপর যুদ্ধে বিভীষিকা বেজে ওঠার মতো একে একে আসতে থাকে পুলিশের গুলিতে ছাত্র নিহত হওয়ার ভিডিও। তারপর চালানো হয় বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র দ্বারা নির্মিত আন্দোলনের কিছু প্রামাণ্যচিত্র।
এ অনুষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় ছিল গণযোগাযোগ অধিদপ্তর। আয়োজনের ব্যাপারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সার্চ কমিটির সদস্য এবং ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাইদ খান সাগর বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান শেষে স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে ৫ আগস্ট। দেশ ছেড়ে পালিয়েছে আমাদের ভাইবোনদের হত্যাকারীরা। এ খুনী স্বৈরাচারের উৎখাত করলেই হবে না, তারা যেন বাংলার মাটিতে আর কখনো শোষণ-জুলুম চালাতে না পারে তার জন্য জুলাইয়ের স্মৃতিকে আমাদের জাতীয় মানসে ধরে রাখা অপরিহার্য।’










