চরকিতে শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে ‘ফেউ’। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন সুকর্ণ সাহেদ ধীমান। এর আগে অস্থির সময়ে স্বস্তির গল্প ও বাংকার বয়ে নিজের নির্মাণ প্রতিভার প্রমাণ রেখেছিলেন তিনি। ফেউ নির্মাণের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান

মরিচঝাঁপির গল্প নিয়ে সিরিজের নাম ‘ফেউ’ কেন?

সত্যি বলতে মরিচঝাঁপি আমাদের এ সিরিজের একটা প্লট। ১৯৭৮ সালের মরিচঝাঁপির যে ঘটনা সেটা যেমন আছে, তেমন ওই সময়কার একজন মৌয়াল কেমন করে ডাকাত হয়ে ওঠে, সে রকম একটা গল্পও আছে।

তাহলে ওই গল্প বা সিরিজের গল্প সম্পর্কে আরেকটু জানতে চাই।

যেমনটা বলেছি, একটা প্লট মরিচঝাঁপির। সেটা ১৯৭৮ সালের গল্প। আবার ২০০২ সালের সময়টাও এসেছে। সেটা আরেকটা গল্প। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত রাজনৈতিক ও অন্যান্য বিষয়। অনেকগুলো পক্ষ তখন অ্যাক্টিভ ছিল। দর্শকের হয়তো সেটা মনে আছে। তো দুই টাইমলাইনে আমরা ফেউয়ের গল্পটা সাজিয়েছি। একদিকে মরিচঝাঁপির ঘটনা, সে সময়কার খুলনা ও তার আশপাশের পরিস্থিতি নিয়ে গল্প এগিয়েছে। ২০০২-এর সময়ের সঙ্গে ১৯৭৮-এর সাদৃশ্য দেখানোর চেষ্টা ছিল।

কোনো বিশেষ চরিত্র কি আছে?

হ্যাঁ, অনেক চরিত্রই তো আছে। তবে এজেন্ট শর্মা নামে একটা চরিত্র আছে। দেখা যায়, ১৯৭৮ সালে ওখানে তার একটা প্রভাব ছিল এবং সেটা ২০০২ সালেও ছিল। এটা একটা ইন্টারেস্টিং চরিত্র।

খুলনা নিশ্চয়ই বিশেষভাবে এসেছে সিরিজে?

তা এসেছে। আমরা বাদা অঞ্চলে শুট করেছি প্রায় ছয় মাসের মতো। সিরিজের গল্প তো ওই জায়গাকে ঘিয়েই। তবে রাজনীতির বিষয়টায় খুলনা কেবল না, আমরা পুরো বাংলাদেশটাকেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এ গল্পের মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিকভাবে যদি দেখি ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা এ সিরিজে দর্শক কিছুটা আঁচ পাবেন। একটা সংলাপ আছে আমাদের সিরিজে—ভাটি যার দখলে, পুরো এশিয়া তার দখলে থাকবে। ভাটি মানে শুধু খুলনা না অবশ্যই। পুরো বাংলাদেশ। এটা আমরা আগেও দেখেছি, ভবিষ্যতেও দেখব।

বেশ জটিল একটা গল্প। অনেক শাখাপ্রশাখা। এ গল্প নিয়ে কাজ করেছেন কতদিন ধরে?

নির্দিষ্ট করে যদি বলি ২০২২ সালে শুরু করি আনুষ্ঠানিকভাবে। কাজ শুরু হয় সে সময় থেকেই। ২৩ সাল পর্যন্ত চিত্রনাট্য লেখা হয়। তবে আইডিয়া এসেছিল আরো আগে। ২০১৬ সালে আমি একটা তথ্যচিত্র নির্মাণ করতে সুন্দরবনে যাই। মরিচঝাঁপির বিষয়টাও তখনই জানতে পারি। এরপর বারবার যাওয়া হয়েছে ওখানে, ঘুরতে বা রিসার্চ করতে। সুন্দরবনে তো নানা রকম গল্প আছে—স্থানীয় পুরাণ থেকে শুরু করে বিচিত্র ধরনের রাজনীতি। সেটা ওই অঞ্চলে চলাচল করলে বোঝা যায়। এছাড়া বোঝা যাবে না। সবকিছু নিয়ে গল্পটা সাজাতে, চরিত্র বসাতে, ভাষা তৈরি করতে সময় লাগে। আমরা চেয়েছিলাম, কোনো প্রচলিত গল্প না, ভিন্ন কিছু আনব। যেটা নিয়ে এখনো কথা হয়নি। যে অঞ্চল নিয়ে গল্প, যে সময় নিয়ে গল্প; সেটা যেন বোঝা যায়, সেখানকার কাল্ট ধরা যায়।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু শুনতে চাই। বিশেষ কোনো স্মৃতি যদি শেয়ার করেন...

অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে আসলে। যেমন আমরা মরিচঝাঁপির সেট বানিয়েছিলাম সুতরখালি নামের একটা জায়গায়। সেখানে জোয়ার-ভাটা হয় নিয়মিত। এটা আমাদের আটকে নিতে হয়েছিল। ওখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি ও মানুষকে বোঝানোর জন্য আমাদের প্রচুর আর্টিস্ট প্রয়োজন ছিল। আমরা ওখানকার বাসিন্দাদেরই নিয়েছি সিরিজে। তাদের একটা দীর্ঘ সময় গ্রুমিং করেছি, যেন গল্পের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা যায়। সিরিজে বেশকিছু ইমোশনাল দৃশ্য আছে। সেখানে তারা যেভাবে অভিনয় করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য ছিল। আসলে তারা হয়তো অভিনয় করেনি, নিজেরা দৃশ্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।

স্বাভাবিকভাবেই তাদের সঙ্গে আমাদের একটা হৃদ্যতার সম্পর্ক হয়ে যায়। আমরা ফেরার সময় তারা রীতিমতো আমাদের জড়িয়ে ধরিয়ে কান্নাকাটি করছিল।

মানুষের গল্প বলেছেন, মানুষ তো ভালোবাসবেই...

হ্যাঁ, একটা সময় ওরাই শক্তি জোগায়।

তাহলে সে শক্তি নিয়ে সুকর্ণ সাহেদ ধীমান নতুন কী করছেন?

এখনো সেভাবে কিছু শুরু করিনি। তবে কোরবানির ঈদ বা কাছাকাছি সময়ে কোনো কনটেন্ট আসতে পারে। সেটা শর্টফিল্মও হতে পারে।