জানুয়ারিতে মুক্তি পেয়েছে ফ্লোরেন্স পিউয়ের ‘উই লিভ ইন টাইম’। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন জন ক্রাউলি। ফ্লোরেন্সের সঙ্গে সিনেমায় আছেন অ্যান্ড্রু গারফিল্ড। সিনেমাটি নিয়ে খুব বেশি কথা হয়নি, কিন্তু এতে ফ্লোরেন্সের অভিনয় প্রশংসা হওয়ার মতো। এ নিয়ে আলাদা করে কথাও হতে পারে। বিষয়টা হলো আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন সিনেমাসংশ্লিষ্টরাই বলতে চান সুপারস্টার বলতে আর কিছু নেই। সে কারণে ভালো অভিনয় নিয়েও কথা কমে গেছে। কেননা মনে হয়, ভালো অভিনয় মানেই তারকাকে বড় করা। এসব জটিলতা বাদ দিলেও বলতে হয়, ফ্লোরেন্স পিউ সিনেমায় আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছেন।

এ সময় থেকে ৫৫ বছর পূর্বের গল্প নিয়ে উই লিভ ইন টাইম। সিনেমাটি লিখেছেন নাট্যকার নিক পাইন। তার লেখার পাশাপাশি পিউ ও গারফিল্ডের ক্যারিশম্যাটিক অভিনয় সিনেমার গল্প ও চরিত্রগুলোকে মূর্ত করে তুলেছে দর্শকের কাছে। এ সিনেমা নিয়ে তাই দ্য গার্ডিয়ানে লিখেছেন সমালোচক গাই লজ। বিশেষ করে তিনি পিউয়ের অভিনয় নিয়েই আগ্রহী। তার মতে, এ অভিনেত্রী অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।

২০১৬ সালে পিউ অভিনয় করেছিলেন লেডি ম্যাকবেথ সিনেমায়। শেকসপিয়রের গল্প নয়, উইলিয়াম ওল্ডরয়ডের গল্পটা ছিল পুরুষতন্ত্র বিরোধী। এ সিনেমায় মাত্র ২০ বছর বয়সী পিউ উনিশ শতকের একজন বালিকা বধূর চরিত্রে অভিনয় করেন এবং পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর যে সাহস এ চরিত্রের মধ্যে দেখানোর ছিল, তা স্পষ্ট করতে পেরেছেন। তারকাখ্যাতি তার সে সময়ই পাওয়ার কথা।

পিরিয়ড ড্রামায় যেন পিউয়ের অভিনয় খোলতাই হয়। ২০১৯ সালে তিনি অভিনয় করেছিলেন ‘লিটল উইম্যান’ সিনেমায়। লুইসা মে অ্যালকটের উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মধ্যে পিউর অভিনয় আলাদা করে নজর কেড়েছিল। এমা ওয়াটসনের পাশে তাল মিলিয়ে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সিনেমাটি অস্কারেও মনোনীত হয়েছিল। একই বছর ভিন্ন ধারার সিনেমা মিডসামারেও দুর্দান্ত অভিনয় করেন। তবে সিনেমাটিতে অভিনয় করতে গিয়ে প্রচুর পরিশ্রম হয়েছিল। সে কারণে এ ধারার আউটডোর শুটের প্রতি বিরক্তিও প্রকাশ করেছিলেন পিউ।

পিরিয়ড ড্রামার পাশাপাশি তিনি অন্যান্য সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। মার্ভেলের সিনেমা ও সিরিজে দেখা গেছে তাকে। ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ব্ল্যাক উইডোয় অভিনয় করেছেন এলেনা চরিত্রে। স্কারলেট জোহানসনের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে সমানে সমান টক্কর দিতে। একই চরিত্রে ওই বছর হকআই সিরিজেও অভিনয় করেছেন পিউ।

এ দশকের সেরা তকমা পাওয়া সিনেমায়ও দেখা গেছে পিউকে। তিনি অভিনয় করেছেন ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘ওপেনহাইমার’-এ। সিনেমাটি ২০২৩ সালের অন্যতম সেরা। পরের বছর তিনি অভিনয় করলেন ‘ডুন’-এর দ্বিতীয় পর্বে প্রিন্সেস ইরুলানের চরিত্রে। এটিও প্রশংসিত হয়েছে।

সিনেমার পাশাপাশি অ্যানিমে ও অ্যানিমেশনেও তার পদচারণা স্বচ্ছন্দ। ২০২২-২৩ দুই বছর পুস ইন বুটসে কণ্ঠ দিয়েছেন গোল্ডিলক চরিত্রের জন্য। ২০২৩ সালে হায়াও মিয়াজাকির ‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’-এর ইংরেজি সংস্করণে কণ্ঠ দিয়েছেন কিকিরো চরিত্রে।

ফ্লোরেন্স পিউ এ দশকে নিজেকে হলিউড ও বিশ্বের সিনেমায় যেভাবে নিজেকে মেলে ধরছেন, তা বিস্ময়কর। হলিউডের পুরনো সুপারস্টারদের মতোই নিজের জায়গা করে নেয়ার পাশাপাশি ভালো কাজ রেখে যাচ্ছেন তিনি। সে কারণেই গাই লজ বলতে চান, আমরা ফ্লোরেন্স পিউয়ের সেরা সময় দেখছি। দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে