বিশ্ব চলচ্চিত্রের মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। ৭৫তম এ আসর ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ২৩ ফেব্রুয়ারি। এতে পার্সপেক্টিভ বিভাগে জুরি হিসেবে থাকছেন চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু। এর আগে তিনি ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ থেকে ফিপ্রেসি জুরি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেরও জুরি ছিলেন তিনি। এ চলচ্চিত্র উৎসবে জুরির অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
৭৫তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আপনি পার্সপেক্টিভ জুরি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে থাকছেন। এ নিয়ে আপনার অনুভূতি জানতে চাই।
এটা আমার দীর্ঘদিনের কাজের একটা স্বীকৃতি বলা যায়। ভালো লাগার অনুভূতি অবশ্যই কাজ করছে। আমি খুব আনন্দ বোধ করছি।
বিশ্বের অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ এ আয়োজনে একজন বাংলাদেশী হিসেবে ডাক পাওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
যেকোনো জায়গায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। আমি যে বিভাগে জুরি থাকবো সে বিভাগে ১২ জন জুরি থাকবেন। এর মধ্যে আমি একজন বাংলাদেশী। যখন কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনা হবে, তখন আমার কথা শোনার পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিচারের মধ্যে আনবে বা বিবেচনা করবে। সে জায়গা থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য আনন্দের।
এর আগে আপনি ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবেও ছিলেন, বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ ওই আসরের অভিজ্ঞতা যদি বলতেন।
কান চলচ্চিত্র উৎসবকে বিশ্বের এক নম্বর মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব বলা হয়। এ উৎসবে তারা সবাইকেই রেড কার্পেটে সম্মান জানায়। এর অংশ হিসেবে প্রথমবার চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও আমন্ত্রণ জানাল রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য। কান চলচ্চিত্র উৎসবে এর আগে এমনটি হয়নি। আমাদেরই প্রথম জানাল। ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ আমার জন্য একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
জুরি সদস্য হিসেবে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করে আপনার প্রাপ্তিটা কী?
চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করলে সেখানকার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বিশ্বের সিনেমা কী অবস্থায় আছে, তারা কোন ধরনের সিনেমা বানাচ্ছেন বা তারা কী চিন্তা করছেন, তা জানা যায়। যেহেতু সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিনেমা প্রদর্শিত হয়, তাই সবাই দেখার আগে সেগুলো আমরা দেখতে পারছি। এছাড়া বিশ্বের বড় বড় সিনেমা নির্মাতা ও অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারা এবং চিন্তার আদান-প্রদান করতে পারা বড় একটা অভিজ্ঞতা।
এসব চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমা নির্বাচন করা হয় কিসের ভিত্তিতে?
পৃথিবীতে ‘এ’ লিস্টেড যেসব চলচ্চিত্র উৎসব আছে, তাদের চিন্তার কাঠামো এক ধরনের। একেক ধরনের চলচ্চিত্র উৎসবের চিন্তা, স্বাদ, মেজাজ ভিন্ন। যেমন সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে এক রকম সিনেমা বাছাই হয়, আবার কান আরেক রকম বাছাই করে। কিছু চলচ্চিত্র উৎসব আছে, যারা শুধু সায়েন্স ফিকশন সিনেমা প্রদর্শন করে। আসলে ফেস্টিভ্যালের অভাব নেই। প্রত্যেকে তারা তাদের মাপে সিনেমা নির্বাচন করে।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমাদের বাংলাদেশী সিনেমা কম কেন?
পৃথিবীতে চলচ্চিত্র উৎসব নানা ধরনের হয়। এ লিস্টেড চলচ্চিত্র উৎসব আছে ২০-৩০টি। এসব উৎসবে আমাদের দেশের সিনেমা কম যাওয়ার কারণ হলো আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেক ছোট, আমাদের দেশে কমার্শিয়াল ফিল্ম কম হয়। ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম আরো কম হয়। চলচ্চিত্র উৎসবকে মাথায় রেখে সিনেমা বানানো একটা চর্চার বিষয়। আমাদের দেশে এটা কেবল শুরু হয়েছে। আমার মনে হয়, এটা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং বাড়বে। আগামী কয়েক বছর এ সংখ্যা আরো বেশি দেখতে পাব।
বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের কি পার্থক্য দেখেন?
পৃথিবীর অন্য চলচ্চিত্র উৎসবগুলোয় সরকারি বড় ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা থাকে। তাদের নির্দিষ্ট ফিল্ম সেন্টার বা চলচ্চিত্র দেখানোর একটা ভালো অবকাঠামো আছে। এসব উৎসবে দর্শক টিকিট কেটে সিনেমা দেখে। কিন্তু আমাদের দেশে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ফ্রি সিনেমা দেখানো হয়। ঢাকায় ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের কোনো নিজস্ব ভবন নেই। আমাদের কোনো ফিল্ম সেন্টার নেই। ফিল্ম স্ক্রিনিংয়ের জন্য ভালো জায়গা নেই। আমরা যেসব জায়গা ভাড়া করে সিনেমা দেখাই, সেগুলো উপযুক্ত নয়।










