কলাকেন্দ্রে শুরু হচ্ছে নতুন প্রদর্শনী। এবারের প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘মেঘনাদবধ’। এবারের শিল্পী কবির আহমেদ মাসুম চিশতি। প্রদর্শনীটি শুরু হবে আজ। সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধন হবে মেঘনাদবধ। প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের লালা রুখ সেলিম।
মেঘনাদবধ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কবির আহমেদ মাসুম চিশতি লিখিত ভাষা ও আঁকার ভাষা নিয়ে যে নতুন দৃশ্যভাষা নির্মাণের চেষ্টা করছেন, সেটাই মেঘনাদবধ নামের প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হলো। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ভাষা বিষয়ে মাসুমের আগ্রহ অনেক দিনের। ২০১৪-১৫ সাল থেকে মাসুম এ কাব্য নিয়ে ছবি আঁকা শুরু করে। মধুসূদনের বৈপ্লবিক কাব্য বাংলা সাহিত্যে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল। কাব্যে ভাষার বৈভব, বর্ণনায় যে চিত্রকল্পের বিশাল সমাহার ফুটে উঠে, সেটা মাসুম গভীরভাবে অনুভব করে। মধুসূদনের কাব্যে বাংলা ভাষার বিপুল শব্দের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার তাকে বিস্মিত করে।’
কবির আহমেদ মাসুম চিশতি একজন দৃশ্যশিল্পী। তার কাজ তার সংস্কৃতির শিকড় ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে গভীর সংযোগের প্রতিফলন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাস্কর্যে এমএফএ (১৯৯৮) ডিগ্রি অর্জনকারী চিশতির শিল্পকর্ম, পরিচয়, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের সহনশীলতার মতো বিষয়গুলো অন্বেষণ করে। বাংলাদেশী ঐতিহ্যের ভিত্তিতে, তিনি ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আখ্যানগুলোর সঙ্গে জড়িত হওয়ার জন্য গল্প বলা, ভাস্কর্য ও পারফরম্যান্সের উপাদানগুলোকে একত্র করেন।
২০০৩ সালে ঢাকায় বৃত্ত আর্ট ট্রাস্ট ও ২০১৫ সালে শনি-মঙ্গল আড্ডা প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি একজন। মাসুম বিভিন্ন একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। যেমন টোকিওর ইমাজিনারি সিননিমস্ থেকে ভেনিস বিয়েনাল ও ঢাকা আর্ট সামিট। তার কাজ ফুকুওকা এশিয়ান আর্ট মিউজিয়াম ও বাংলাদেশ জাতীয় চিত্রশালার সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আজীবন শিক্ষার্থী হিসেবে মাসুম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রেসিডেন্সি করে আসছে, যার মধ্যে আছে স্কোহেগান সামার রেসিডেন্সি, টোকিও ওয়ান্ডার সাইট, ফুকুওকা এশিয়ান আর্ট মিউজিয়াম।










