একাধারে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—দুই মাধ্যমে সমান স্বচ্ছন্দে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন অভিনেত্রী এলিনা শাম্মী। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র বিচারকার্যে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেই দায়িত্ব শেষ হতেই দিলেন নতুন খবর—শুরু করেছেন নতুন এক চলচ্চিত্রের কাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন সিনেমাটির একটি পোস্টার। সেখানে দেখা যায়, লাল চাদর জড়ানো এক ব্যক্তির রহস্যময় স্থিরচিত্র। পোস্টারটি প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের কৌতূহল বেড়েছে। অনেকে ধারণা করছেন, এটি এলিনা শাম্মীর নতুন কোনো ব্যতিক্রর্মী চরিত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা তার অভিনয়জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। এলিনার নতুন সিনেমা ও অন্যান্য বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন অহিদুর রহমান
নতুন সিনেমা: আঞ্চলিক ভাষার গল্পে ‘দুঃসাহস’
সম্প্রতি আমি যে চলচ্চিত্রটিতে কাজ করেছি, সেটির নাম ‘দুঃসাহস’। এটি বাগেরহাটে শুট হয়েছে। বাগেরহাট আমার নিজের এলাকা। সিনেমাটি আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত এবং সেখানকার একটি গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু বাগেরহাট আমার নিজের এলাকা, তাই সিনেমায় কাজ করা আমার জন্য একেবারেই স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয় ছিল। সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা খুব ভালো। গল্প নিয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই, তাই আপাতত তেমন কিছু বলতে পারছি না, তবে দর্শকরা এতে কিছু নতুনত্ব দেখবে—এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
চরিত্রে নতুন রূপে এলিনা শাম্মী
আমি একজন ড্রাগ ডিলারের চরিত্রে অভিনয় করেছি সিনেমায়। এতটুকু বলতে পারি, এটি আমার অভিনয়জীবনের অন্যতম ভিন্ন অভিজ্ঞতা। এমন চরিত্রে আগে কাজ করা হয়নি। চরিত্রটি গভীর ও চ্যালেঞ্জিং। বাকিটা রিলিজের পরই জানতে পারবে।
নিজের এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
সিনেমাটির শুট হয়েছে বাগেরহাটে, যা আমার নিজের এলাকা। ইউনিটের বেশির ভাগ সদস্যই বাগেরহাটের মানুষ। বাগেরহাট অনেক আগে থেকেই শিল্প-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। এ অঞ্চল থেকে বহু ভালো শিল্পী চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। তাই একেবারে পরিচিত, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। নিজের এলাকার মানুষ, ভাষা, আবহ—সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা, যা আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করেছে।
‘নতুন কুঁড়ি’তে বিচারকের আসনে অভিজ্ঞতা
‘নতুন কুঁড়ি’র অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ। বহু বছর পর এটি নতুনভাবে শুরু হয়েছে। শিশুরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে, যা আমাদের সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। ভবিষ্যতে এ শিশুরাই নিজেদের প্রমাণ করে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। শিল্প-সংস্কৃতিতে যে ঘাটতি বহু বছর ধরে দেখা যাচ্ছিল, আমি বিশ্বাস করি এ প্রজন্ম সেই শূন্যতা পূরণ করবে। অভিভাবকরা সন্তানদের সহায়তা করছেন, তারাও প্রশংসার দাবিদার। মনে হচ্ছে, এবার আমরা একঝাঁক নতুন ও প্রতিভাবান কুঁড়ি পেতে যাচ্ছি।
নতুন প্রজন্মের প্রতি আশাবাদ
শিশুদের আগ্রহ আমাকে সত্যিই অবাক করেছে। সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছে। সকাল থেকে তারা অপেক্ষা করেছে। তাদের প্রস্তুতি ও মনোযোগ দেখে মনে হয়েছে আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। কেউ কেউ হেরে গেছে, কিন্তু আমি মনে করি যারা এবার জয়ী হয়নি, তারা যেন নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে আবার নতুন করে প্রস্তুতি নেয়।
বর্তমান ব্যস্ততা
বর্তমানে সালাউদ্দিন লাভলু ভাইয়ের পরিচালনায় ও মাসুম রেজার রচনায় আমি একটি ধারাবাহিকে কাজ করছি, নাম ‘ফুলগাঁও’। এছাড়া ‘দুঃসাহস’ সিনেমায় কাজ করেছি, আর ‘জলরঙ’ নামে একটি চলচ্চিত্র এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে। পাশাপাশি আরো কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নাটক, টেলিফিল্ম ও বিজ্ঞাপন নিয়েও কিছু আলোচনা চলছে।
ভবিষ্যৎ ভাবনা
অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে স্বপ্ন অবশ্যই আছে। কিন্তু স্বপ্ন যেভাবেই দেখা হোক, তা বাস্তবায়ন না হলে তার মূল্য থাকে না। দেশের পরিস্থিতি এখন কিছুটা মন্দা—গণ-অভ্যুত্থানের পর অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে। সবকিছু স্থিতিশীল হলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করব। এখন তুলনামূলক কাজ কম, অনেকেই কাজহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা টুকটাক কাজ করছি, তবে কাজের ফ্লোটা আরো বাড়া দরকার। আশা করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উন্নতি হবে এবং আমরা আবারো ব্যস্ত সময়ের মধ্য ফিরে যাব।










