রূপাতলী বাস টার্মিনাল এবং কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের দুই শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্বে বরিশালে গতকাল সব রুটের বাস চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেলা ১টার দিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের পৃথক দুই কমিটির নেতাদের মধ্যে প্রায়ই ঘটছে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষের দায়েরকৃত মামলায় কাউকে গ্রেফতার না করায় গতকাল সকাল ১০টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে এ দুই টার্মিনালে কয়েক হাজার যাত্রী অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। বেলা ১টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে বাস ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন জেলা বাসমালিক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে। এ সময় তিনি জানান, দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস এবং যাত্রী দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

শ্রমিকরা জানান, বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দুটি কমিটি নতুনভাবে গঠিত হয়। এরপর থেকেই দুই গ্রুপ শ্রমিক নেতাদের মধ্যে প্রায়ই ঘটতে থাকে অপ্রীতিকর ঘটনা। এরই জের ধরে লকডাউন শিথিলের পর বৃহস্পতিবার সকালে রূপাতলী বাস টার্মিনাল ভবনের নিচতলায় কাউন্টারের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে শ্রমিক ইউসিয়নের সুলতান মাহামুদ ও সহিদুল ইসলাম টিটু গ্রুপের হামলায় পরিমল চন্দ্র দাস ও শাহরিয়ার বাবু গ্রুপের কয়েকজন আহত হন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার ৪ ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ থাকার পর পুলিশের মধ্যস্থতায় এবং মামলার আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় সুলতান মাহমুদসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ হলেও কাউকে গ্রেফতার না করায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

পরিমল চন্দ্র দাস ও শাহরিয়ার বাবু নেতৃত্বাধীন কমিটির নেতারা জানান, তাদের মালিক ও শ্রমিকদের ওপর সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। তবে সুলতান মাহমুদ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও বৃহস্পতিবারই শ্রমিক ইউনিয়নের অন্য গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার বাবু বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নূরুল ইসলাম জানান, মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।