পঞ্চগড়ে এক ব্যক্তিকে পৃথক জন্মতারিখে দুটি জন্মসনদ প্রদান করেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ওই ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা (ইউডিসি) মিজানুর রহমানকে বরখাস্তের সুপারিশপত্র পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়েছে।

জন্মসনদ গ্রহণকারী সুমন রানার (২৩) বাড়ি সদর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের শিংপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের জরিপ মোল্লার ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ২০১৭ সালে ১৫ অক্টোবর সুমন রানার নামে জন্মসনদ ইস্যু করা হয়। সেখানে ওই সনদে তার জন্মতারিখ ছিল ২০০০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। পরে পুনরায় সুমন রানার নামে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন আরো একটি জন্মসনদ ইস্যু করা হয়। নতুন ওই সনদে তার জন্মতারিখ দেয়া হয়েছে ১৯৯৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি।

এ বিষয়ে ওই ইউপির উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সুমন রানা নামে এক তরুণ আমার কাছে জন্মসনদ নিতে আসেন। আমি তাকে ইউপি সচিব নয়ন ইসলামের কাছে দেখা করার পরামর্শ দিই। আমি ওই তরুণের পিতা-মাতার নাম ইউপির সার্ভারে অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু পাইনি। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর সচিব নয়ন ইসলাম আমাকে আবেদনের মাধ্যমে ওই তরুণকে জন্মসনদ দেয়ার নির্দেশ দেন। তারপর ওইদিনই আমি ওই তরুণের জন্মসনদের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সুমন রানাকে সচিবের কাছে পাঠিয়েছি। সচিব আমাকে যেভাবে পরামর্শ দেন, সেভাবেই আমি কাজ করি। নতুন এ জন্মসনদ আমি তার নির্দেশেই দিয়েছি।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নয়ন ইসলাম জানান, সুমন রানার নামে পূর্বের জন্মনিবন্ধন থাকলেও উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান কেন নতুন আরো একটি জন্মসনদ প্রদান করবেন তা আমার বোধগম্য নয়। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই। কারণ প্রিন্ট কপি যখন আমার কাছে আসে, আমি ৫০ টাকা ফিস গ্রহণ করে সই করে দিই। পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করে জন্মসনদ প্রদান করেন।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল হক বলেন, আসলে সচিবের সই করার পর আমি জন্মসনদে সই প্রদান করি। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা মিজানের ভুলের কারণে দুটি জন্মসনদ একই ব্যক্তির নামে হয়েছে। এজন্যই আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ ১২ অক্টোবর রেজল্যুশন করে উদ্যোক্তা মিজানুরকে বরখাস্তের সুপারিশ পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রদান করেছি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন জানান, ওই ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা (ইউডিসি) মিজানুর রহমানের বরখাস্তের ব্যাপারে একটি রেজল্যুশন পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।