বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ বিষয়ের উপর আমাকে এখানে কথা বলতে হবে এটা আমি কখনো ভাবিনি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর যখন আমরা সবাই মুক্ত একটা দেশে, ফ্যাসিস্ট মুক্ত একটা দেশে বাস করছি।
‘আক্রমণের মুখে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গত ১৫ বছর সব সময় ভয়ে ছিলাম। কখন কোন মুহুর্তে কী লেখার জন্য পত্রপত্রিকায় যারা লিখতেন তারা ও আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের কখন কী বলার জন্য কারাগারে যেতে হয়, মামলা হয় এ বিষয়গুলো নিয়ে আতঙ্কে ছিলাম।
তিনি বলেন, আজকে এই সময়ে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে এটা আমি আগে কখনো ভাবিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, আজকে ৫৩ বছর পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও এ মিডিয়ার ওপরে আক্রমণের বিষয় নিয়ে আমাদের কথা বলতে হচ্ছে। আমি গত পরশুও বলেছি, তার আগে আমি বিবৃতি দিয়েছি যে এর প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই, নিন্দা জানাই।
তিনি আরো বলেন, আমরা সব সময় মনে করি, আমাদের লড়াইটাই তো বাক স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। আমি আমার কথা বলতে চাই, আমি আমার অধিকার প্রয়োগ করতে চাই, ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে চাই। এ বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি বিষয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আজকে কিছু মানুষ তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিছু কথা বলা হচ্ছে যে কথাগুলো আমার কাছে মনে হয় যে পুরোপুরি নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, এনার্কির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে বন্ধ করা দরকার। না হলে যে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের ছেলেরা প্রাণ দিয়েছে, আমাদের মানুষেরা প্রাণ দিয়েছে, তার সবটাই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একই সঙ্গে আরেকটি কথা আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে আজ পর্যন্ত আন্দোলন করেছি দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা নির্মাণ করার জন্য। মাঝে মাঝে হঠাৎ করে কিছু কাজ হয় যেটা বি-রাজনীতিকীকরণের দিকে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, এটা আমাদের সবাইকে অত্যন্ত সচেতনভাবে পরিহার করা দরকার। আমি মনে করি, নির্বাচিত সরকার যেকোনো সরকার থেকে ভালো। সে যেই হোক, আসুক...। কিন্তু আমি সেটাকে ঠিক করে দেব, নিয়ন্ত্রণ করব, গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করব এটা আমি বিশ্বাস করি না।
গণতন্ত্রের চর্চা হোক, যেটি হয়নি ৫৩ বছর। সে চর্চা হোক, সেই চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমরা আমাদের সবার মত প্রকাশ করতে পারব।
একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করা, একটা হঠকারিতার দিকে যাওয়া, এ মুহুর্তে এই সময়ে আমার মনে হয় যে জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। আমরা বারবার এ কথা বলছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে যে পরাজিত ফ্যাসিস্ট ভারতে পালিয়ে গেছে এবং সে নিরাপদ আশ্রয়েই আছে। সেখান থেকে কলকাঠি নাড়ছে যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বাস্তব রূপ দেয়ার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে নৎসাত করার জন্য। এ বিষয়গুলো মনে হয় আমাদের বেশি প্রয়োজন।
আমরা বিবৃতি দিয়ে বিষয়গুলোর নিন্দা জানিয়েছি। আমরা এটাও ঘোষণা করেছি, আমরা যেকোনো মূল্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মানুষের স্বাধীনতা, ভোটের স্বাধীনতা, জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব। আমরা আপনাদের (গণমাধ্যম) সঙ্গে আছি, জনগণের সঙ্গে আছি।










