বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বলেছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর তখত-তাজ (সিংহাসন-মুকুট) উল্টে যাবে এমন ভয়ে আছে আওয়ামী
লীগ। নয়াপল্টনের বিএনপির সমাবেশ নিয়ে তাদের ঘুম হারাম হয়েছে। এখন নিজেদের ওপরই তাদের
আস্থা নেই।
আজ শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক
মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে এই মন্তব্য করেন তিনি।
বেলা ২টার দিকে মূল সমাবেশ শুরু হয়। এর আগে
সকাল থেকেই বক্তব্য দেন স্থানীয় ও আঞ্চলিক নেতারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি
মহাসচিব। বিকেলের দিকে বক্তব্য দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১০ তারিখে বিএনপি নয়াপল্টনেই
সমাবেশ করতে চায়। সেখানে বিএনপি বরাবর বিভাগীয়, জাতীয় অনেক সমাবেশ করেছে। সেখানে লাখ
লাখ মানুষ হয়েছে। কোনোদিন কোনো সমস্যা হয়নি। তাহলে এখন কেন সমস্যার কথা আসছে?’
চোরের মন পুলিশ পুলিশ- উল্লেখ করে তিনি বলেন,
‘কিছু হলেই দুঃস্বপ্ন দেখে। বিএনপি আইলো, বিএনপি আইলো, তারেক রহমান আইলো, তারেক রহমান
আইলো। বিএনপির যে আন্দোলন, তা খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য নয়, তারেক রহমানকে
প্রধানমন্ত্রী করার জন্য নয়, বা তাদের দলের নেতাদের মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়, এ আন্দোলন
ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন।’
এ সময় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের
দাবি জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে
ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারা একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। তারপর নতুন নির্বাচন
হবে। সেই নির্বাচনে সংসদ গঠিত হবে। এখন যেসব দল আন্দোলনে আছে তাদের নিয়ে জাতীয় সরকার
গঠন করা হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসনামলে
৬০০ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। এর মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদীতে জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড
দিয়েছে। ২৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে। এটাই এই সরকারের চরিত্র। এভাবে তারা বিরোধীদলকে
নির্মূল করে দিতে চায়। এতে কি নির্মূল হয়েছে? রাজশাহীর মানুষ ভয় পেয়েছে? পায়নি। আরো
উত্তাল হয়ে জেগে উঠেছে। এই লড়াইয়ে আমাদের জয়ী হতেই হবে।’
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘ইসলামী ব্যাংক
থেকে নয়টা গায়েবি কোম্পানিকে টাকা দিয়ে ব্যাংক খালি করে দেওয়া হয়েছে। সরকার পরিকল্পিতভাবে
অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির
জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান,
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল
কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ।









