টি-টোয়েন্টি সিরিজে জমজমাট লড়াইয়ের রেশ কাটতে না কাটতে এবার ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা। আজ বেলা আড়াইটায় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। শুক্রবার ও সোমবার একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ। চিরাচরিতভাবে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ভালো করেছে। যদিও এবার সেই গৌরব ম্লান হওয়ার পথে। কারণ ২০২৩ সালে আফগানিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের কাছে টানা দুটি হোম সিরিজ হেরেছে টাইগাররা। এবার লংকানদের সঙ্গে না পারলে ২০১১ সালের পর টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়ের গ্লানি পাবে বাংলাদেশ দল। 

উপমহাদেশের দুই ক্রিকেট জাতির ওয়ানডে দ্বৈরথে লংকানরা অনেক অনেক এগিয়ে। ১৯৮৮ সালে শুরু এ দ্বৈরথে ৫৪ ম্যাচ খেলে তারা এখন পর্যন্ত ৪২টি জিতেছে, আর বাংলাদেশের জয় মাত্র ১০টি। এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য আসর বাদে দুই দেশ এখন পর্যন্ত ৯টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে শ্রীলংকা ৬টি ও বাংলাদেশ মাত্র ১টি সিরিজ জিততে সমর্থ হয়েছে। টাইগাররা জিতেছে দুই দলের সর্বশেষ সিরিজটা। ২০২১ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১-এ জয়লাভ করে স্বাগতিকরা। উপমহাদেশের দুই চেনা দলের আরেকটি ওয়ানডে সিরিজ আসন্ন। এবার কারা হাসবে শেষ হাসি? 

ছিয়ানব্বইয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ওপর কতটা কর্তৃত্ব করে এসেছে তার প্রমাণ সিরিজগুলোর একপেশে ফল। লংকানরা পাঁচটি তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেছে।

বাংলাদেশের মাটিতে তিনটি ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে টাইগার ও সিংহলিজরা। এ তিন সিরিজের মধ্যে শ্রীলংকা দুটি ও বাংলাদেশ একটি জিতেছে। ২০১৪ সালে মিরপুরে তিন ম্যাচের সবগুলোয় হেরেছে টাইগাররা। 

শ্রীলংকার সঙ্গে নিজেদের মাঠে মোট ২০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে টাইগাররা জিতেছে ৬টি, হার ১৪টি। এই ২০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি হয়েছে চট্টগ্রামে। ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে কুমার সাঙ্গাকারার সেঞ্চুরিতে (১০৯) বাংলাদেশ হেরেছিল ৭৮ রানের ব্যবধানে। ১৮ বছর পর চট্টগ্রামে ওয়ানডে খেলবে সিংহলিজরা।

ওয়ানডে কম খেললেও চট্টগ্রামে পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে শ্রীলংকা। ২০০৬ সালের সফরে বন্দরনগরীতে প্রথম টেস্ট খেলে তারা। সর্বশেষ ২০২২ সালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পাঁচদিনের ম্যাচ খেলেছে লংকানরা। এবার সাগরিকায় ৫০ ওভারের দ্বৈরথে নামছে দুই দল। 

এ সিরিজে বাংলাদেশকে অনুপ্রেরণা জোগাবে দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচ। গত বছর নভেম্বরে দিল্লিতে বিশ্বকাপ ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৩ উইকেটে হারিয়েছিল সাকিব আল হাসানের দল। ব্যাটে-বলে নৈপুণ্য দেখিয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন সাকিব। অবশ্য এবারের হোম সিরিজ থেকে তিনি ছুটি নিয়েছেন। 

চট্টগ্রামে গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের না থাকা নিয়ে বাংলাদেশ দলনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘এবার তো সাকিব ভাই নেই। কাজেই কম্বিনেশনে একটু এদিক-ওদিক হবে। কারণ উনি থাকলে টিমটা করা আমাদের জন্য সহজ হয়। ওইটা মাথায় রেখেই আমরা আমাদের ব্যাটিং অর্ডারটা সাজাব। টিমের জন্য যেটা বেটার হবে সেটাই আমরা করার চেষ্টা করব। তবে ব্যাটিং অর্ডারটা আশা করছি ঠিকই থাকবে।’ 

শান্ত জানান, তারা একটা টিম হিসেবে খেলতে চান। তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে খেলা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন দল হিসেবে খেলি, তখন আমাদের ম্যাচ জেতার সুযোগ বেশি থাকে। মাঠের মধ্যে একটি টিম হিসেবে খেলছি কিনা, সেটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ জিতি কিংবা হারি না কেন, একটি টিম হিসেবে খেলা গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ডে কিন্তু আমরা একটি টিম হিসেবে খেলতে ও যেকোনো পরিস্থিতিতে জিততে চেয়েছি। কাজেই পরের বিশ্বকাপ আসা পর্যন্ত এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে যে আমরা একটি দল হিসেবে কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। আগামী তিন-সাড়ে তিন বছর আমরা একসঙ্গে কতটুকু আছি সেটি গুরুত্বপূর্ণ।’

আজ একাদশে কে কে থাকবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেন, ‘যে ১৫ জন স্কোয়াডে আছে সবারই খেলার সম্ভাবনা ও সুযোগ আছে। কালকে (আজ) হয়তো সিদ্ধান্তটা নেব যে কোন ১১ জন খেলবে। সর্বশেষ রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ) যুক্ত হয়েছেন, তিনি সর্বশেষ সিরিজটা ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি। এটা একটা ভালো দিক আমাদের টিমের জন্য। কাজেই কাল (আজ) সম্ভাব্য সেরা ১১ জনই খেলবেন বলে আশা করি। যারা সুস্থ থাকবেন তারাই খেলবেন ইনশা আল্লাহ।’

সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলংকার হেড কোচ ক্রিস সিলভারউড বলেন, ‘টি২০ সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে দুই দল। আমি আশা করব, ওয়ানডে সিরিজেও দুই দলের মধ্যে ভালো লড়াই হবে। দুটিই ক্রিকেট পাগল জাতি। কাজেই আমি মনে করি ভালো ক্রিকেট হবে। আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে এ সিরিজকে আমরা প্রস্তুতি হিসেবে নিচ্ছি। সিরিজটা আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। দুটি দলই ভালো। এটা নতুন ওয়ানডে সাইকেল। তাই আমরা যদি পরের বিশ্বকাপ জিততে চাই তবে এখন থেকেই বিশেষ ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে হবে। সম্প্রতি ঘরের মাঠে শ্রীলংকা যে ক্রিকেট খেলেছে আশা করি সেই ছন্দ এখানেও ধরে রাখতে পারবে তারা।’