হাওর এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনা ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে জাইকার (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) আর্থিক সহযোগিতায় হাওরের বাঁধ সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ প্রকল্পের আওতায় হাওরে নতুন অবকাঠামো তৈরি করা হবে, যা কৃষকদের ফসল রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) ঢাকায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে। দলের নেতৃত্ব দেন জাইকার সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর তেরুয়াকি ফুজিই।
প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য, হাওরের বোরো ধানকে আগাম বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা করা, টেকসই ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা ও স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। প্রাথমিকভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার ১১টি হাওরকে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হবে ৪৫০.১৯ কিলোমিটার, খাল ও নদী পুনঃখনন ৭৭.৭০০ কিলোমিটার, ৫৮টি ইরিগেশন ইনলেট, ৫৮টি ফ্লাড ফিউজ, ২২টি রেগুলেটর বা বক্স ড্রেনেজ আউটলেট, ৯টি থ্রেশিং ও ড্রাইয়িং ফ্লোর, ৮টি পানি ব্যবস্থাপনা গ্রুপের অফিস ভবন এবং ৬টি গেট মেরামত করা হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৪৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৫৮৪ কোটি ১২ লাখ টাকা জিওবির এবং ১ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা জাইকার মাধ্যমে অর্থায়ন হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্য মেয়াদকাল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত। ২০২৬ সালের মার্চে এটি একনেকে উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বন্যায় হাওরের ফসল ও কৃষক রক্ষায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জাইকার আর্থিক সহযোগিতায় ১১টি হাওরে ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ হলে কৃষি উৎপাদনে ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
প্রকল্পের উপস্থাপনায় জানানো হয়, কৃষি উৎপাদন উন্নয়ন, আবহাওয়ার প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
বৈঠকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, যুগ্ম সচিব দীপান্বিতা সাহা, উপ-সচিব মো. মোবাশশেরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ছিলেন। জাইকার পক্ষে প্রোগ্রাম অফিসার ওয়ামা এরিনা ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর ওমাগারি হিদেও ছিলেন।










