বগুড়ায় যমুনা নদীতে পানি বাড়ায় বন্যার আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ির মালপত্র সরানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। যমুনা নদীর অর্ধশত চরে চাষ করা পাট কাটতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ধীরে ধীরে পানি বেড়ে গতকাল বিপত্সীমার ১৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, কয়েকদিন ধরেই যমুনা এবং বাঙ্গালী নদীতে পানি বাড়ছে। এ মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বিপত্সীমার ১৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ বছর কিছুটা দেরিতে বন্যা আসছে।

বগুড়ার সারিয়াকান্দির দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার পরশুরাম জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার যমুনা নদীতে পানির উচ্চতা ছিল ১৪.০৩ সেন্টিমিটার, বুধবার ১৪.৩৩ ও বৃহস্পতিবার ১৪.৮০ সেন্টিমিটার। সর্বশেষ গতকাল সকাল ৬টায় যমুনা নদীর পানি বিপত্সীমার ১৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলা যমুনা নদীর মুখে গড়ে উঠেছে। প্রতি বছর বন্যায় এ তিন উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যমুনা নদীর পাশাপাশি তিন উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে বাঙ্গালী নদী। যমুনার পানি পেয়ে বাঙ্গালী নদীও বন্যা ও ভাঙন সৃষ্টি করে। গত মঙ্গলবার বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় চাষীরা পাট কাটতে শুরু করেছেন। শ্রমিক সংকট থাকলেও বন্যায় পাটগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে নিজেরাই কাটতে শুরু করেছেন।

পাটচাষীরা বলছেন, যমুনা নদীর চরে এখন শুধু পাট, মরিচ ও কিছু সবজির ফলন রয়েছে। এরই মধ্যে মরিচ তোলা একেবারে শেষ পর্যায়ে। আর পাট পরিপক্ব হওয়ায় ভালো ফলন পাবেন পাটচাষীরা। অন্য সবজির তেমন ক্ষতি না হলেও পাটের বড় ক্ষতি হতে পারে বলে তা কেটে জাগ দেয়ার ব্যবস্থা করছেন চাষীরা। এ বছর বন্যা দেরিতে আসায় সময়মতো পাট কাটতে পারছেন।

স্থানীয় চাষীরা চৈত্রের শেষ দিকে পাট চাষ শুরু করেন। উপজেলার চালুয়াবাড়ী, হাটবাড়ী, ফাজিলপুর, তেলীগাড়ী, গওলাডাঙ্গা, মানিকদাইড়, আউচারপাড়া, কাকালিহাটা, সবুজের পাড়া, চকরথীনাথ, দিঘাপাড়া, করনজাপাড়া, বনরপাড়া, কাজলা, জামথল, পাকুরিয়া, উত্তর টেংরাকুরা, চরঘাগুয়া, নব্বইয়ের চর, কটাপুর, বেড়া পাঁচবাড়িয়াসহ যমুনা নদীর অধিকাংশ চরে এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ।

সারিয়াকান্দির বাওইটোনা চরের পাটচাষী বাদশা মিয়া জানান, কয়েকদিন ধরেই যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে পাটগাছ পানিতে তলিয়ে যাবে। বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে পাট কাটা হচ্ছে।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম বলেন, গত বছর এ উপজেলায় পাট চাষ হয়েছিল প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে। এ বছর চাষ হয়েছে ৭ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৬০-৭০ মণ পাট উৎপাদন হয়। উৎপাদনে প্রতি বিঘায় খরচ হয় ৬ হাজার টাকার মতো। এ বছর ২ হাজার ৩০০ চাষীকে বিনামূল্যে পাটবীজ দিয়ে পাট চাষে উৎসাহ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ বছর বন্যা দেরিতে আসায় চরাঞ্চলের পাট পরিপক্ব হওয়ায় চাষীরা বাম্পার ফলন পাবেন। তবে পাটগাছ কর্তনের পর এগুলো জাগ দিয়ে পাটের আঁশ পচানোর জন্য বন্যার প্রয়োজনও ব্যাপকভাবে রয়েছে।