দেশে গৃহকর্মীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে সরকারি পর্যায়ে দ্রুত ডাটাবেজ তৈরি এবং সংশোধিত শ্রম আইনে স্পষ্ট রোডম্যাপসহ বৈশ্বিক মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। গতকাল বণিক বার্তা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘গৃহকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তায় সংশোধিত শ্রম আইন: সুযোগ, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে আলোচকরা এসব কথা বলেন। বণিক বার্তা এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অক্সফ্যামের যৌথ উদ্যোগে এবং কানাডা সরকারের সহায়তায় সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।
বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। সংলাপে প্যানেল আলোচকদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) উপপরিচালক (অ্যাডভোকেসি) মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শারমিন সুলতানা (মৌসুমি), গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ও শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম-বাংলাদেশের সভাপতি জাকিয়া সুলতানা এবং সাধারণ সম্পাদক মর্জিনা সুলতানা, কর্মজীবী নারীর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর শাহাজাদী বেগম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী তারেক আজিজ, সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের জেন্ডার ও ইনক্লুশন স্পেশালিস্ট রওশন আক্তার উর্মি এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। সংলাপটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সহকারী সম্পাদক এবং বিশেষ সংবাদদাতা মো. বদরুল আলম।
স্বাগত বক্তব্যে গৃহকর্মীদের ডাটাবেজ তৈরি এবং তাদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন বণিক বার্তা প্রকাশক ও সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। এছাড়া তিনি দেশের বাইরে কর্মরত গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও মজুরি নিয়ে জাতীয় চার্টার তৈরি এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
গতকালের সংলাপে বক্তারা উল্লেখ করেন, কেবল আইনি কাঠামো সংশোধনই যথেষ্ট নয়; বরং গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ নিরসন এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এ বৃহৎ শ্রমশক্তিকে সুরক্ষার আওতায় আনতে হলে আইনি শব্দচয়ন থেকে শুরু করে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেন, ‘সবকিছু করার মতো সক্ষমতা আমাদের নেই। এটি সরকারের একার সমস্যা নয়, এ সমস্যা প্রত্যেক ঘরে ঘরে। এখানে একটি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট ইস্যু আছে। এ কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট হলো—যিনি নিয়োগকারী এবং যিনি কর্মী, তারা আসলে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অবগত নন। এখন গৃহকর্মীরা যদি নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অবগত না থাকেন, তাহলে দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত আমরা সবাই হব। এজন্য দরকার আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিয়োগকারীর—তাদের মনমানসিকতার পরিবর্তন খুব জরুরি।’
পরিস্থিতি পরিবর্তনে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব বলেন, ‘এ পরিবর্তনের জন্য ঘরে ঘরে কাজ করতে হবে, সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এখানে সরকারের পাশাপাশি এনজিও, বিভিন্ন সংগঠন এবং শ্রমিক নেতাদের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার একটি আইনি কাঠামো দিয়েছে, অন্যান্য যে সহযোগিতা দরকার, তা সরকার দেবে। আইন বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব সরকারের। তবে অংশীদার আপনারা সবাই। আমরা সবাই মিলে দায়িত্ব নিলে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।’
শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার একটি বড় বিষয়। আমরা যত আলোচনাই করি না কেন, যদি মনোজগতে এ অঙ্গীকার না থাকে, তাহলে ফল আসবে না। সচিব মহোদয় কয়েকটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। প্রথমত, আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা তদারকির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, অনেক সময় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের চেয়ে এগিয়ে যায়, ফলে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রগুলো পিছিয়ে পড়ে। বর্তমানে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। নীতিমালার ভিত্তিতে যে আইন ও অঙ্গীকার রয়েছে সেগুলোর আলোকে কোথায় কোথায় প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যূনতম সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়, সে দায়িত্ব নিতে আমরা প্রস্তুত।’
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম তার বক্তব্যে আইনের পাশাপাশি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের মনমানসিকতার পরিবর্তন না আনলে কেবল ভালো আইন দিয়ে কোনো কাজ হবে না। আমাদের সমাজ শ্রেণিবিভক্ত ও বৈষম্যে জর্জরিত। যারা আমাদের ঘরে এত কাজ করেন, তাদের মর্যাদা কোথায়? তাদের সম্মান না দেয়ার কারণেই দেশে এত ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ঘটে।’
গৃহশ্রমিকদের শ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে শাহীন আনাম বলেন, ‘ঘরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা এ শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে। আমরা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় ৩৬টি পেশা অন্তর্ভুক্ত হলেও গৃহশ্রমিকদের এখনো সেখানে ঠাঁই হয়নি। অনেক বিধিবিধান থাকলেও সেগুলো বাস্তবায়নের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। নিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সরকারকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে এবং ঘরে ঘরে সচেতনতা পৌঁছে দিতে হবে।’
সংলাপে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের জেন্ডার ও ইনক্লুশন স্পেশালিস্ট রওশন আক্তার উর্মি। ধারণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় গৃহকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা অবহেলিত শ্রমশক্তি। শহর ও গ্রামে ৪০ লাখের বেশি (সংখ্যা অনির্ধারিত) জনগোষ্ঠী, যার ৯০ শতাংশেরও বেশি নারী গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত তাদের শ্রমের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং ন্যায্য অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। গৃহস্থালি কাজকে দীর্ঘদিন অনানুষ্ঠানিক ও পারিবারিক সহায়তা” হিসেবে দেখার প্রবণতার কারণে এ বিপুল জনগোষ্ঠী জাতীয় অর্থনৈতিক গণনা এবং শ্রম আইনের মূল সুরক্ষা কাঠামোর বাইরে রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শারমিন সুলতানা মৌসুমি বলেন, ‘সংশোধনের আগে থেকেই আমরা চেয়েছিলাম গৃহশ্রমিকদের সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা হোক। শ্রম খাতে তাদের যে অবদান, আমরা চেয়েছিলাম সেটার স্বীকৃতি আসুক। সংজ্ঞায়িত যেহেতু হয়েছে এবার অধিকারের জায়গাটুকু দেয়ার চেষ্টা থাকবে। আইনের জায়গায় গৃহশ্রমিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়াটা একেবারেই পরিষ্কার না। এ কারণে যখন একজন গৃহশ্রমিক আইনের আশ্রয় নিতে চাইবেন সেক্ষেত্রে তার প্রমাণ করাটা কঠিন হয়ে যায়।’
গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন বলেন, ‘গৃহপরিচারক শব্দটির সংশোধন করতে হবে। তিনটি অধ্যায় নিয়ে কথা বলা হয়েছে—সংগঠন, দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণ এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়া। কিন্তু এ তিনটি অধ্যায়ই বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। বিধিতে কিছুটা হলেও পরিবর্তন করা জরুরি। আমাদের জন্য যে তিনটি আইন দেয়া হয়েছে সেগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যাতে আমরা এ সুযোগ-সুবিধা পাই।’
আইন শুধু তৈরি করলেই হবে না, সেগুলো প্রচার-প্রচারণাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম-বাংলাদেশের সভাপতি জাকিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু গৃহশ্রমিক, আমরা বিভিন্ন বাসায় কাজ করি। যে বিধিবিধান বা আইন তৈরি করা হচ্ছে সেগুলো নিয়োগকারীরা জানেন না। তাদের কাছে এগুলো পৌঁছে দেয়া জরুরি। অনেক গৃহকর্মীও সেটি জানেন না। কারণ আইন করা হলেও তা নিয়ে যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণা করা হয় না।’
পেশাগত মনোভাব এবং পেশাদারত্বের জায়গাটা দুই পক্ষের জন্যই প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর শাহাজাদী বেগম। তিনি বলেন, ‘গৃহকর্মী নিবন্ধন এবং এটি কোথায় এবং কী প্রক্রিয়ায় করা হবে সেটি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। কারণ এটির সঙ্গে অন্যান্য কাজও সম্পর্কিত। নিবন্ধিত শ্রমিকদের মাধ্যমেই আমরা কাজগুলো শুরু করব। ফলে সাড়া পড়ে যাবে। পরে আরো মানুষ নিবন্ধনে আগ্রহ প্রকাশ করবে। শ্রমিকের এজন্য পেশাগত দক্ষতা থাকাও প্রয়োজন। এতে তাদের দরকষাকষির ক্ষমতাও বাড়বে। এছাড়া নিয়োগকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পেশাগত মনোভাব এবং পেশাদারত্বের জায়গাটা দুই পক্ষের জন্যই প্রয়োজন।’
সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম বলেন, ‘গৃহকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদের এই দিক উপেক্ষিত। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন তাদের বেশির ভাগের মানসিক স্বাস্থ্য নাজুক থাকে।’
গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম-বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মর্জিনা সুলতানা বলেন, ‘গৃহকর্মীর ভাগ্যের পরিবর্তন তখনই আসবে, যখন কোনো সরকার এমন একটি আইন, এমন একটি নীতি তৈরি করবে যা দৃষ্টান্তমূলক হবে। এমন একটি অধ্যাদেশ, এমন একটি নীতিমালা তৈরি করা হোক, এমন একটি আইন তৈরি করা হোক, যা সারা জীবন ইতিহাস হয়ে থাকবে।’
কর্মজীবী নারীর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা বলেন, ‘যেহেতু এ সংশোধন এখনো অধ্যাদেশ পর্যায়ে আছে এবং ভবিষ্যতে সংসদে যাবে, তাই আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট দাবি হলো—আমরা “গৃহপরিচারক” শব্দটি চাই না, এর পরিবর্তে “গৃহশ্রমিক” শব্দটিই রাখতে চাই। আমরা একে একটি আনুষ্ঠানিক খাত হিসেবে দেখতে চাই। বাংলাদেশে গৃহশ্রমিক, শিশুশ্রমিকসহ অধিকাংশ শ্রমিকই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যেখানে শ্রম আইনের প্রয়োগ খুবই সামান্য। দীর্ঘ দেনদরবারের পর ২০১৩ সালে তাদের বিষয়টি শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং ২০১৫ সালে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার সংযোজিত হয়েছে।’
অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী তারেক আজিজ বলেন, ‘গৃহশ্রমিকদের সংজ্ঞাটি স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান হোক। ক্ষমতার কাঠামোতে একজন নিয়োগকারী এবং একজন গৃহকর্মী ঠিক কোন অবস্থানে দাঁড়িয়ে দরকষাকষি করবেন, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অধিকারকে দয়াদাক্ষিণ্য থেকে দেখা বন্ধ করতে হবে। এটি তাদের আইনি পাওনা, কোনো দান নয়। অক্সফ্যাম সবসময় অনিয়ম ও বৈষম্যের লেন্স থেকে বিষয়গুলো দেখে। বৈষম্য ও নির্যাতন কোথায় হচ্ছে, সেই লেন্সটি আমাদের আরো শক্তিশালী করতে হবে। সবশেষে আমি বলব, প্রণীত আইনটি যেন কেবল লোকদেখানো বা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি যেন শ্রমিকদের সত্যিকারের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) উপপরিচালক (অ্যাডভোকেসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে অনিরাপত্তার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। গৃহশ্রমিকরা সারাক্ষণ আগুন ও পানির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাদের সুরক্ষার বিষয়টিকে প্রাধান্য না দিলে সরাসরি ক্ষতিপূরণের মেকানিজমে নিয়ে আসা সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। বিশেষ করে যারা একাধিক বাড়িতে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আরো জটিল হয়ে দাঁড়াবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম যদি গৃহশ্রমিকদের জন্য কার্যকর করা যায়, তবে সেটি ভালো সমাধান হবে।’
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, ‘সংগঠিত হওয়ার অধিকার যেহেতু পাওয়া গেছে সেহেতু আমার মনে হয়, কাজ করার অনেক সুযোগ এ সংগঠনগুলোর আছে।’
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছাড়া যেমন শহর চলে না, গৃহশ্রমিক ছাড়া তেমনি ঘর চলে না। শ্রমিকদের জন্য তিনটি বিষয় অপরিহার্য: রিকগনিশন (স্বীকৃতি), রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) এবং রেমুনারেশন (পারিশ্রমিক)। স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজন স্পষ্ট আইন, যার মাধ্যমে তারা সংগঠন করার অধিকার পাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পারিশ্রমিক নির্ধারণে আমাদের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা দরকার। এ বোর্ড থাকলে খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন কাজের ধরন অনুযায়ী আলাদা মজুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।’










