​মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুরাই নয়, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকেও শিশু একাডেমির কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

​আজ বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার দিবস ২০২৬’ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে পঞ্চাশ বছর: অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান ।

​মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে শিশুদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবনা শুরু করার অনেক আগেই ১৯৭৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের সুপ্ত গুণাবলি বিকাশের সুযোগ পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে শিশু একাডেমির কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে নতুন কুড়িসহ নতুন কুড়ি স্পোর্টস চালু করা হয়েছে, যেখানে ১৪টি ক্রীড়া ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

​সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে এবং বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও মূল্যবোধ অনুসরণ করে শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

​সেমিনারে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।

​অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম

​এছাড়া সেমিনারে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির বোর্ড সদস্য, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দফতর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিশু অধিকার বিষয়ক সংস্থার প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জেলার শিশু একাডেমির শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।