সরকারের ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আজ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্র বিশ্বাস করাটা একটি মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছর যে মানসিকতা আমরা দেখেছি, তা ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। কিন্তু বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে মিডিয়ার স্বাধীনতা বন্ধ করে দেওয়া বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই।’
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের সব সিস্টেম দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থার পর দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এ অবস্থায় সরকারের ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা প্রয়োজন।
বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজমের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো গণমাধ্যম বা ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় ফ্যাসিজমকে সমর্থন, প্রচার বা চর্চা করলে তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার ও বয়কট করা ছাড়া অন্য কিছু করার নেই। যারা মুক্ত বাংলাদেশ ও নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে সরকারের ছয় মাসের বিশেষ অর্জন নিয়ে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিষয়টি আদালত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। তবে জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সব অপরাধের সঠিক বিচারের স্বার্থে যাদের নামে মামলা রয়েছে, তাদের সবাইকে ফেরত আনা হবে—বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান এমনই বলে জানান তিনি।
সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কম পত্রিকা ছাপিয়ে লক্ষাধিক সার্কুলেশন দেখানোর অসত্য প্রক্রিয়া বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বাধীনতা সবার রয়েছে। সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে—জনগণের কথা তুলে ধরাই গণতন্ত্র। বিটিভি ও সরকারি মাধ্যমে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবরও প্রচারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।










