বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রযুক্তি-কূটনীতি ও সরকারি সেবা প্রদানের কেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে স্থান দেয়ার জাতীয় অগ্রাধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তারা এ অগ্রাধিকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল কাজে লাগাতে পুরো সরকারব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারি সেবার সব ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন আন্তঃকার্যক্ষমতা কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথি রেহান আসিফ আসাদ বলেন, জনগণের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নত ডিজিটাল যন্ত্র ও কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ আরো বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে। আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং চিপ ও মেমোরি ব্লক এরই মধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে জ্ঞানভিত্তিক কর্মী তৈরি করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পররাষ্ট্র শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হবে। প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো, প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপে সরকারি সহায়তা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তির ক্রেতা নয়, ভবিষ্যতে প্রযুক্তির নিট সরবরাহকারী হতে চায়। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, বিশেষ করে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতায় প্রযুক্তির ব্যবহার ঠেকানোও অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এর সুফল কারা পাবে। বাংলাদেশ এ প্রযুক্তির শুধু ভোক্তা নয়, এর সুফলের ন্যায়সংগত অংশীদার হতে চায়।

তিনি জানান, জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্স’-এ বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত সমন্বয় করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংলাপে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি (আইটিআইটি) উইং এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ঢাকায় একটি ‘এআই পলিসি ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কারিগরি প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান এআইয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট দিক তুলে ধরেন।

সংলাপে ২৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিদেশে বাংলাদেশের ৮৫টি কূটনৈতিক মিশন অনলাইনে যুক্ত হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, প্রযুক্তি শিল্প, স্টার্টআপ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী চেম্বার, শিক্ষাঙ্গন ও থিংক ট্যাংকের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।