মণিরামপুর উপজেলার খানপুর গ্রামের লুৎফর রহমান দুই মাস ধরে দাঁতের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। উপজেলা কমপ্লেক্স ঘুরে এসেছিলেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। দন্ত বিভাগের ১১৯ নম্বর কক্ষে ডা. সাবিহা তানজিমের কাছে গত শনিবার তিনি দাঁতের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। চিকিৎসক তাকে দাঁতের একটি এক্স-রে দেন। কিন্তু যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দাঁতের এক্স-রে হয় না। বাধ্য হয়ে তিনি ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করান।
শুধু দাঁতের এক্স-রে নয়, বিশেষায়িত যান্ত্রিক চেয়ার থাকলেও তা অকেজো। নেই পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল বেড। যন্ত্র পরিশোধনের ব্যবস্থা, মাউথওয়াশ, রুট ক্যানাল ও রুট ক্যানাল ফিলিং স্কেলিংয়ের ব্যবস্থা, ফিলিং ম্যাটেরিয়াল, কম্প্রেসার, ড্রিল যন্ত্র, অবেদন করার রাসায়নিক কিছুই নেই হাসপাতালে। তাই দাঁতের ফিলিং, স্কেলিং, রুট ক্যানাল বা শল্যচিকিৎসাও দেয়া সম্ভব হয় না। হাসপাতালের পরিসংখ্যানও তাই বলছে। ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত অর্থাৎ গত সাড়ে পাঁচ বছরে এখানে দাঁতের কোনো মেজর অপারেশন হয়নি। তবে মাইনর কিছু অস্ত্রোপচার হয়েছে।
হাসপাতালের দন্ত বিভাগের প্রধান ডা. কাজী শামিম আহমেদও অকপটে তা স্বীকার করেন। বলেন, হাসপাতালের দন্ত বিভাগ জোড়াতালি দিয়ে চলছে। বহুবার কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র দিয়েছি। কিন্তু কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের মসলেম বিশ্বাসের স্ত্রী আরজিনা বেগম, আরবপুর এলাকার আইয়ুব হোসেন, শহরের শংকরপুর এলাকার রাশেদ আলী মোড়লসহ অনেকের অভিযোগ, দাঁত থাকতেও তারা দাঁতের মর্যাদা বোঝেননি। অবহেলার কারণে তাদের খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ। অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে এলেও সঠিক চিকিৎসাবঞ্চিত হয়েছেন। চিকিৎসকরা তাদের সঠিকভাবে দেখলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। উপায় না থাকায় তাদের অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন। যারা পরীক্ষা করতে পেরেছেন তাও ধারদেনা করে। কেননা মুখ ও দন্ত চিকিৎসা অনেকটাই ব্যয়বহুল। এ ব্যয় মেটানো বেশির ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষের সাধ্য নেই।
হাসপাতালের ১১০ ও ১১৯ নম্বর কক্ষে দেখা গেছে, রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার ডেন্টাল চেয়ার, বাতি ও কম্প্রেসর অকেজো হয়ে গেছে। জানতে চাইলে হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডা. কাজী শামিম আহমেদ বলেন, ‘দাঁতের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত যান্ত্রিক চেয়ার নেই। আছে দুটি ডেন্টাল বেড। তবে দুটিরই ফ্ল্যাশ লাইট নষ্ট। টর্চলাইট জ্বালিয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল বেড নেই। প্রয়োজনীয় সিলভার অ্যালই, জিংক ওক্সি, ফসফেট সিমেন্ট, মর্টাল পেস্টাল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় দাঁতের ফিলিং, স্কেলিং, রুট ক্যানাল বা শল্যচিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। তাই দাঁতের সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন শতাধিক রোগী এলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে শিশু ও বয়স্কদের দাঁত তোলা, ডায়ালাইসিস ও ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয় এখানে। মুখমণ্ডলের ছোটখাটো অস্ত্রোপচার করা হয়।’










