টি২০ ফরম্যাটে ২০২৩ সালে কোনো সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ জয়ের সুযোগ এসেছিল। যদিও স্বাগতিকরা বাংলাদেশকে সিরিজ জিততে দিল না। গতকাল মাউন্ট মঙ্গানুইতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ ডিএলএস মেথডে ১৭ রানের জয়ে সিরিজ ১-১-এ ড্র করে কিউইরা। ফলে কাছাকাছি গিয়েও ২০২৩ সালে মধুর সমাপ্তি হলো না টাইগারদের।
দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো যেকোনো ফরম্যাটে সিরিজ জয়ের হাতছানি ছিল। ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই সুযোগ হারাল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলনায়ক ও হেড কোচও ব্যাটিং নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯.২ ওভারে মাত্র ১১০ রান তুলে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। কিউইরা গতি ও ঘূর্ণির সম্মিলিত আক্রমণে কোণঠাসা করে বাংলাদেশকে। টিম সাউদি, অ্যাডাম মিলনে ও বেন সিয়ার্স প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট নেন। মাঝের দিকে টানা চার উইকেট শিকার করেন কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। বাংলাদেশের ব্যাটাররা ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না। শান্ত সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন ১৫ বলের মোকাবেলায়। অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে জীবন দেন তিনি। তার মতোই পরিণতি হয় বাকিদেরও।
১১১ রানের টার্গেটটা কিউইদের জন্য কঠিন হওয়ার কথা নয়। এর পরও বোলারদের কল্যাণে জয়ের আশা জাগায় বাংলাদেশ। শেখ মেহেদী হাসান ও শরিফুল ইসলামের অনবদ্য বোলিংয়ের মুখে ৪৯ রানে ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তাদের শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের চারজনই মাত্র ১ রানে আউট হন! বিপদের মধ্যেও লড়ে যান ওপেনার ফিন অ্যালেন। তিনি ৩১ বলে ৩৮ রান করে দিলে রানের চাপটা কমতে থাকে স্বাগতিকদের।
এরপর জেমস নিশাম ও স্যান্টনার ৩৭ বলে ৪৬ রানের জুটিতে দলকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। কিউইদের সংগ্রহ যখন ৫ উইকেটে ৯৫ রান তখন মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে খেলা আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। ওই সময় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন মেথডে স্বাগতিক দলটির বোর্ডে ৭৮ রান থাকলেই চলত, তাদের ছিল ৯৫/৫। ফলে ১৭ রানের মহামূল্যবান জয় পায় দলটি। এই জয়টি তাদের সিরিজ হারের লজ্জা থেকে বাঁচায়।
বাংলাদেশ এ বছর এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেও টি২০ ফরম্যাটে এসেছে গর্ব করার মতো সফলতা। ইংল্যান্ড (৩-০), আয়ারল্যান্ড (২-১) ও আফগানিস্তানের (২-০) বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। এবার নিউজিল্যান্ডে বছরের শেষ টি২০ সিরিজটা কাছাকাছি গিয়েও জেতা হলো না। তবে খালি হাতে ফিরছে না দল। স্যান্টনারের সঙ্গে ট্রফিতে অন্তত একটি হাত পড়েছে বাংলাদেশ দলনায়কের! সিরিজের ট্রফি ভাগাভাগি করছে দুই দল।
টি২০ সিরিজের আগে ওয়ানডে সিরিজটা ১-২-এ হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৯৮ রানে অলআউট করে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় টাইগাররা। সেই জয়ে উজ্জীবিত দলটি টি২০ সিরিজেও শুভসূচনা করে। তাতে সিরিজ জয়ের আশা জাগে। শেষটা অবশ্য রাঙানো হলো না।
ম্যাচ শেষে হারের জন্য ব্যাটারদের দুষছেন অধিনায়ক শান্ত। পাশাপাশি বোলার শেখ মেহেদী হাসান ও শরিফুলের প্রশংসা করেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘বোলাররা খুব ভালো করেছে। সব বোলারই আজ ভালো বল করেছে। তবে ব্যাটসম্যানরা যথেষ্ট রান করতে পারেনি। শুরুতে খুব বেশি উইকেট পড়েছে। আর টি২০তে শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ব্যাটসম্যানরা কেউ ম্যাচটাকে গভীরে নিতে পারেনি। এই ভুলটা আজ আমরা করেছি।’
বাংলাদেশ দলের হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও দুষলেন ব্যাটারদের। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দুই ওভার পরই আমরা আলোচনা করেছি যে এটা ১৬০ রানের উইকেট নয়। ১৪০-১৫০ রানের উইকেট। তবে আমরা সেটাও করতে পারিনি। রানের ঘাটতি ছিল। তার পরও বোলাররা আমাদের ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। সিরিজজুড়ে আমরা যেভাবে বল করেছি, দারুণ ছিল তা। ক্রিকেটাররা সবাই হতাশ। আমরা সবাই জিততে চাই। জয়ের সুযোগ আমরা নিজেদের দিয়েছিলাম। তবে যেমন বলেছি, এই উইকেটে যথেষ্ট রান আমরা করতে পারিনি।’
সিরিজ জিততে না পারলেও এবারের নিউজিল্যান্ড সফরকে সামগ্রিকভাবে সফল হিসেবেই দেখছেন লংকান কোচ। তিনি বলেন, ‘সিরিজের শুরুতে আমরা কথা বলেছি যে আগে আমরা এখানে কেমন করেছি এবং এবার আরো ভালো কিছু করতে চাই। সেদিক থেকে বলব এটা খুবই সফল সফর।’
কোচের গর্বিত হওয়ারই কথা। কেননা ওশেনিয়ার দেশটিতে ওয়ানডেতে ১৮ হারের পর ও টি২০তে ৯ হারের পর প্রথম জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। সফলতার কারণ নিয়ে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘ক্রিকেটারদের মানসিকতা এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। এ তরুণ দলটির কোনো ভয়ডর নেই। মাঠে নেমে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। এবার মৌলিক ব্যাপারগুলো আমরা আগের চেয়ে লম্বা সময় ধরে ঠিকঠাক করেছি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৯.২ ওভারে ১১০ (শান্ত ১৭, তাওহিদ ১৬, আফিফ ১৪; স্যান্টনার ৪/১৬)। নিউজিল্যান্ড: ১৪.৪ ওভারে ৯৫/৫ (অ্যালেন ৩৮, নিশাম ২৮*, স্যান্টনার ১৮*; শরিফুল ২/১৭, মেহেদী ২/১৮)। ফল: নিউজিল্যান্ড ১৭ রানে জয়ী (ডিএলএস)। ম্যাচসেরা: মিচেল স্যান্টনার (নিউজিল্যান্ড)। সিরিজসেরা: শরিফুল ইসলাম (বাংলাদেশ)। সিরিজ: ১-১-এ ড্র।










