বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য গঠিত তহবিলও রেহাই পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অবসরকালীন সুবিধার টাকা আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অ্যাকাউন্টে যত সহজে পৌঁছে দেয়া হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কাজটি কিন্তু অত সহজ ছিল না। কারণ পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, এর কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত তহবিলও রেহাই পায়নি।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের দেয়া বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল কলেজ এবং মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ২০২২ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দু'টি ফান্ডে তাদের জমানো টাকার একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন। এ দুটি তহবিলের একটি হচ্ছে, 'বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট' এবং অন্যটি 'অবসর সুবিধা বোর্ড'। এ দুই তহবিলে জমানো টাকা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।
তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এ অনুষ্ঠানে আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে চাই। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কল্যাণে তার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে 'বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট' এবং ২০০২ সালে 'অবসর সুবিধা বোর্ড' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি এই তহবিলে সরকারি ফান্ড থেকে প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এ তহবিলের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতিমাসে যে টাকা জমা দেন, সেই টাকার সঙ্গে সরকারও প্রতিটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্টহারে একটি অ্যামাউন্ট জমা করে। এর উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘ চাকুরী জীবন শেষে অবসর যাওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষিকা যাতে একটি ভালো অ্যামাউন্ট হাতে পান। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, চাকরি জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এ টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে মনে হয় ঘুষ দেয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনো ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা যার যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। শিক্ষক সমাজ যারা নীতি নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীদের বড় করে তুলেন, তাদেরই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, আমি মনে করি, সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়। বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতাই প্রকাশ পায়।
তারেক রহমান আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ২০২২ সাল থেকে এ তহবিল থেকে কোনো টাকা পাচ্ছিলেন না। বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু দেখা যায় এ দুই ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই। ফলে অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দুরবস্থা চিন্তা করে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থায় আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আজ এ অনুষ্ঠানে একটি কথা তুলে ধরতে চাই, যতদিন আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আপনাদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে আপনাদের
আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না। আর কোনো মধ্যস্বত্তভোগীর যন্ত্রনা সইতে হবেনা। আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই আপনাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ আরো অনেকে।










