মৌলভীবাজারের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে পারেননি অনেকে। চাহিদা না থাকায় বিক্রি করতে না পেরে কেউ মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন, আবার কেউ নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, কোরবানির পর প্রতি বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পশুর চামড়া কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু এবার অনেক এলাকায় চামড়া কেনার জন্য কোনো ক্রেতা মেলেনি। এ কারণে জেলার কমলগঞ্জ, বড়লেখা, সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ এলাকায় শত শত কোরবানির চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের জালাল মিয়া বলেন, ‘গত বছরও কোনো পাইকার চামড়া কিনতে আসেননি। পরে স্থানীয় মাদ্রাসার ছাত্ররা চামড়া নিয়ে যায়। এবার তারাও আসেনি। এক দিন অপেক্ষা করে ঈদের পরের দিন চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলি। একই চিত্র পুরো গ্রামে।
ব্যবসায়ীরা জানান, জেলায় চামড়া সংরক্ষণের ভালো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ কারণে প্রতি বছর এ জেলায় শত শত কোরবানির পশুর চামড়া নষ্ট হয়। আবার যারা কিনছেন, তারাও খুব কম দাম দিচ্ছেন। ৫০ থেকে ১০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করলে মূলধন হারানোর আশঙ্কায় অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী এবার চামড়া কেনেননি।
তবে আড়তদাররা বলছেন, লবণের সংকট থাকায় বেশি চামড়া সংরক্ষণের সুযোগ নেই। এ কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও কমে গেছে।
তারা জানান, সদর উপজেলার বালিকান্দি গ্রামেই চামড়া সংরক্ষণের কয়েকটি আড়ত রয়েছে। এর বাইরে জেলায় আর কোথাও তেমন ব্যবস্থা নেই। প্রায় প্রতি বছরই লবণের সংকট দেখা দেয়। ফলে চামড়া সংরক্ষণের পরিমাণ কমে আসে।
এবারও ঈদের পরদিন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বালিকান্দি এলাকার অনেক ব্যবসায়ী সংরক্ষণ করতে না পেরে মনু নদে কয়েক শ চামড়া ফেলে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ না পাওয়ায় গরমে দ্রুত পচে যায় এসব চামড়া।
গত কয়েক বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে অস্বাভাবিক কম দামে। সরকার মূল্য নির্ধারণ করলেও গরুর প্রতিটি চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকায়। আর খাসির চামড়া অনেকেই বিক্রিই করতে পারেননি। প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে অনেকে চামড়া দান করেছেন মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। তবে সেই চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোও।
মৌলভীবাজার বালিকান্দি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শওকত বলেন, চামড়া খাতের সঙ্গে এ এলাকার ব্যবসায়ী ও দরিদ্র অনেক মানুষের জীবিকা জড়িত। সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে প্রতিবছরই এভাবে জাতীয় সম্পদ নষ্ট হবে।










