রাজশাহীতে ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় মৎস্য আইন বাস্তবায়ন কার্যক্রম জোরদার এবং অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ দেন বক্তারা।
এছাড়া ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা বৃদ্ধি, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন-বিপণন বন্ধ, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণকারী জেলেদের দেয়া খাদ্য সহায়তার আওতা বাড়ানো, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং দূষণ বন্ধে নানা কর্মসূচির বিষয় উঠে আসে কর্মশালায়।
জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর।
জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মজিদ আলী, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম, রাজশাহী নৌ পুলিশ সুপার দীন মোহাম্মদ, বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক তোফাজউদ্দীন আহমেদ, মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী।
জেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সানজিদা খানমের সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমান।
চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা: চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহী নগরীতে পাঁচ প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ শুক্রবার দিনভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোহসিইউ জামান অমি (৩০), রিদুয়ান
ইসলাম (২১), আনোয়ার
হোসেন (২৫), রাব্বি
হাসান (২৮) ও আরাফাত হোসেন শুভ (২২)। তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ বলছে, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডে (নেসকো) বিভিন্ন পদে নিয়োগের নামে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন তারা।
অভিযান চলাকালে তাদের কাছে ১৬টি ভুয়া নিয়োগপত্র এবং নেসকোর লোগো সংবলিত একটি ব্যানার পাওয়া গেছে। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহূত চারটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ, নয়টি মোবাইল ফোন সেট, ২৪টি স্ট্যাম্প, ২০টি ভোটার আইডি কার্ড, একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
নগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নেসকোতে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন মোক্তার হোসেন মোতালেব (৫৩)। তিনি ঢাকা মহানগরীর মুগদা থানার উত্তর মুগদাপাড়ার বাসিন্দা।
মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই সাহাবুল ইসলামকে। ঘটনার সত্যতা যাচাইসহ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছেন, মোহসিইউ জামান অমি নিজেকে নেসকোর সহকারী প্রকৌশল হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্রগুলো চাকরি প্রত্যাশীদের দিতেন। গ্রেফতার রিদুয়ান ইসলাম কম্পিউটার প্রশিক্ষক। তিনিই ভুয়া নিয়োগপত্রগুলো তৈরির কাজগুলো করতেন। অন্য আসামিরা প্রতারণার কাজে সহায়তা করতেন।
জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎই ছিল এ চক্রের মূল উদ্দেশ্য। পরে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র।










