আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিনে অনুষ্ঠেয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশের দরজা খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
বৃহস্পতিবার বিকালে খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়াম গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইমাম সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ।
আলী রীয়াজ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণভোটেও অংশ নিন। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় মানবিক স্বদেশ গড়ে তুলতে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’-তে আপনি নিজে সিল দিন, আপনার পরিচিত সবাইকে সিল দিতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং তাদেরকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। দেশ পাল্টে দিন।
আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই গণ-লঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এ অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আরো গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সেই উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
এ সময় ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। সরকার ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।
ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের কথাও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী। পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত করার অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি।
জুলাই সনদের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না এবং সব ক্ষমতা কেবল প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না। এ ছাড়া সনদে এ ধরনের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের ছাত্র -জনতার অংশগ্রহণে ২০২৪ এর জুলাইয়ে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের সুচনা হয়। এবং দীর্ঘকালীন দমনমূলক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এ অভ্যুত্থান রাষ্ট্রকে নতুনভাবে বিনির্মানের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সে সুযোগ কাজে লাগাতে আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দিন।
তিনি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিতকল্পে একটি 'ইনসাফ' ভিত্তিক সমাজ কায়েম করতে 'হ্যাঁ' ভোট দিতে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফজলুর রহমান, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, সিএমপি কমিশনার জাহিদুল হাসান, তামিরুল মিল্লাত রাহমানিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাজমুস সউদ, নেসারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবদুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মহিউদ্দিন মজুমদার।










