সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে শুকনো মরিচ আমদানি
কমে গেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে মসলা জাতীয় পণ্যটির
আমদানি কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় বাজরে শুকনো মরিচের দাম বাড়ায় আমদানি কমেছে।
এদিকে আমদানি কমে যাওয়ায় শুকনো মরিচ থেকে চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়
কমেছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সত্ত্বাধিকারী
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, তার
প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের মসলা জাতীয়
পণ্য আমদানি করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে শুকনো
মরিচ অন্যতম।
তিনি বলেন, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছর শুকনো মরিচের আমদানি খরচ
বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারে। ফলে শুকনো মরিচের চাহিদা যেমন কমেছে তেমনি আমদানির পরিমাণ কমে গেছে।
তিন জানান গেল বছর প্রতি সপ্তাহে যেখানে ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক শুকনো মরিচ আমদানি করা হতো সেখানে
বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক শুকনো মরিচ আমদানি করছে তার প্রতিষ্ঠান। আমদানিকৃত এসব শুকনো মরিচ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের
বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
একই ধরনের বর্ণনা দিলেন ভোমরার অপর একটি মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান
মেসার্স ছোঁয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী গণেশ কুমার। তিনি বলেন, গত অর্থবছর প্রতি
মাসে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক শুকনো মরিচ আমদানি করতো তার প্রতিষ্ঠান। কিন্ত দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে চাহিদা কমে
যাওয়ায় শুকনো মরিচ আমদানি কমেছে বলে জানান তিনি। বর্তমান তার প্রতিষ্ঠানে মাসে ৮ থেকে ১০ ট্রাক শুকনো আমদানি হচ্ছে বলে জানান
তিনি।
অন্যদিকে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা
গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে এ বন্দর দিয়ে শুকনো মরিচ
আমদানি হয়েছে ২০ হাজার ৪৯৮ টন। যা গেল অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় অন্তত ৪৫
শতাংশ কম। আমদানিকৃত এসব শুকনো মরিচের মূল্য ২৮৯ কোটি ছয় লাখ টাকা। এ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২৮ কোটি
৯০ লাখ টাকা।
সূত্রটি আরো জানায়, গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আট মাসে এ বন্দর দিয়ে শুকনো মরিচ আমদানি হয়েছিলো ৩৬ হাজার ৭০৩ টন যার মূল্য ৫৩১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। শুকনো মরিচ আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৫৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন বণিক বার্তাকে জানান, যে কোনো পণ্য আমদানি কম বেশি হয় মূলত ব্যবসায়ীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। তবে গেল
অর্থবছরের তুলনায় অর্থবছর শুকনো মরিচ আমদানি কমেছে।
তিনি বলেন, অর্থবছরের প্রথম
আট মাসে শুকনো মরিচ আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ৫৩ কোটি টাকার উপরে। সেখানে
চলতি অর্থবছর একই সময় এ পণ্য থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ২৮ কোটি টাকা। ফলে আমদানি কমে যাওয়াতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমেছে
শুকনো মরিচ আমদানি থেকে।









