বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ অতিরিক্ত নিয়ম-কানুন ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জর্জরিত। এর ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, দেশে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে হবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, বসুন্ধরায় ১৫তম গ্যাপেক্সপো-২০২৬ ও গার্মেনটেক বাংলাদেশ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এবং এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রা. লি.-এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। এছাড়া বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সভাপতি আব্দুল হাই সরকারসহ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আমীর খসরু বলেন, কিছু ব্যবসায়ীর দুর্নীতি, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির ও অলিগার্ক ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে আমাদের সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এজন্য আমরা চাই, বাংলাদেশের ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড, যাতে সবার জন্য সমান থাকে। যাতে করে তারা দেশে দেশের বাইরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টর লেড গ্রোথ অর্থাৎ ব্যক্তিখাত চালিত অর্থনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। এজন্য আমাদের শাসনের সময় ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলেছি, বন্ডেড ওয়ারহাউজ আমরা করেছি ব্যবসাকে সহজ করার জন্য। আগামী দিনে আরো সহজতর করার জন্য যতগুলো পদক্ষেপ নেয়া দরকার আমরা সেই পদক্ষেপ নেব, আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি।
এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, আমরা বাংলাদেশকে একটা ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড নেশনে পরিণত করতে চাই। আমাদের সেই সক্ষমতা ও উদ্যমী মানুষজন আছে। আমার কাজ আপনাদের এ চলার পথকে কিভাবে আরো মসৃণ করা যায়, কিভাবে আরো সহজ করা যায়। ব্যবসায়ীরা আসলে বাংলাদেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান করছে। ১৮ কোটি জনগণের এই দেশে কোটি কোটি এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করেছে আমাদের প্রাইভেট সেক্টর। আমরা এখন যে কাজগুলো করার চেষ্টা করছি সেটা হচ্ছে যে আপনাদের যে ভোগান্তি সেটা কতভাবে কমানো যায়।
তিনি আরো বলেন, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার তার সব রকমের উপাদান আমাদের মধ্যে আছে। আমাদের শক্ত হতে হবে এবং যেসব অনিয়ম আছে, প্রত্যেকটা দূর করার জন্য জিরো টলারেন্স নীতিতে এগতে হবে। আপনাদের সবার সহযোগিতা লাগবে। আমরা আপনাদের পাশে আছি।










