ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সঙ্গে খাসকামরায় দেখা করতে না পেরে এজলাসে গিয়েও প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন দাগনভূঞা থানা থেকে প্রত্যাহারের আদেশ পাওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান। গতকাল সকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খানের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিচারকের এজলাসে হঠাৎ ঢুকে পড়েন ওসি নোমান। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি পরপর তিনবার স্যালুট দিয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। বিচারক বিষয়টি খেয়াল করে আদালতের স্টেনোগ্রাফারের কাছে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান।
পরিচয় জানার পর ওসির উদ্দেশ্যে বিচারক বলেন, তিনি কেন সেখানে এসেছেন। ওসির সঙ্গে বিচারকের ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। এরই মধ্যে তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয়া হয়েছে এবং আদালতের আদেশ সব সময়ই আদেশ। বিচারকের এমন বক্তব্যের পর কোনো উপায় না পেয়ে ওসি নোমান এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান।
এর আগে বিচারক এজলাসে ওঠার পূর্বেও ওসি তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুমতি ছাড়া বিচারকের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয় বলে তাকে সাফ জানিয়ে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, ওসিকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আদালতের আদেশের চিঠি তারা পেয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই এক গৃহবধূকে নির্যাতন এবং অন্য এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটে। এ দুটি গুরুতর অপরাধের মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগে দাগনভূঞা থানার ওসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত। পৃথক দুটি ঘটনার এজাহার থানায় না নেয়ায় ওসির দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফেনীর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন একই আদালত।










