দেশে ইলিশ আহরণ ২০২০-২১ অর্থবছরের আগে ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এরপর তা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে মাছটির আহরণ কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। যে কারণে এবারও বাজারে ইলিশের দাম কমছে না। সারা দেশে ইলিশের প্রাপ্যতা, মূল্য ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

উপদেষ্টা বলেন, ‘ইচ্ছে থাকলেও এবার কম দামে ইলিশ খাওয়াতে পারিনি। প্রাকৃতিকভাবে এবারও উৎপাদন কম হলো। আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। সদিচ্ছা থাকলেও অনেক কিছু করতে পারিনি।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ বছরে ইলিশ আহরণ প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে ইলিশ আহরণের হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে জাটকা আহরণের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর বাজারে ইলিশের প্রাপ্যতা বৃদ্ধির আশা থাকলেও জুলাই ও আগস্ট মাসে যথাক্রমে ৩৩ দশমিক ২০ শতাংশ ও ৪৭ দশমিক ৩১ শতাংশ হারে আহরণ কমেছে। এই দুই মাসে মোট আহরণ হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৯৩ দশমিক ৫০ টন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫৩৮ দশমিক ৭৭ টন ইলিশ রফতানি করে ৩৫২ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে অনুমোদিত রফতানির তুলনায় প্রকৃত রপ্তানির হার ক্রমাগত কমেছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানির জন্য অনুমোদন ও রফতানি ছিল ১ হাজার ৮৭৫ টন, আয় হয় ১৫৪ কোটি টাকা। ২০২১-২২ সালে অনুমোদন ৪ হাজার ৬০০ টন, রফতানি ১ হাজার ২১১ টন, আয় ১১৩ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ সালে অনুমোদন ৩ হাজার টন, রফতানি ১ হাজার ৩৭৬ টন, আয় ১৪৮ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুমোদন ছিল ৩ হাজার ৫৫০ টন, কিন্তু রফতানি হয় মাত্র ৬৬৫ টন, আয় ৮৫ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনুমোদন ছিল ২ হাজার ৪২০ টন, রফতানি হয়েছে ৫৭৪ টন, যার মূল্য ৬৮ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানির জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে ১ হাজার ২০০ টন, যার রফতানি কার্যক্রম এখনো চলমান।

বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি কেজি ইলিশের রফতানি মূল্য নির্ধারণ করেছে ১২ দশমিক ৫০ ডলার (প্রতি ডলার ১২১ দশমিক ৭২ টাকা ধরে)। এ হিসাবে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রফতানিকৃত ৮১ হাজার ৪৩৮ কেজি ইলিশের বাজার মূল্য দাঁড়ায় ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৭ হাজার ৯১৭ টাকা। আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে রফতানিকৃত ২২ দশমিক ২৬ টনের বাজার মূল্য ৩ কোটি ৩৮ হাজার ১৫৪ টাকা।