বরিশালের বেশ কয়েকটি স্থানে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ছে খালগুলো। ফলে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে দখল চলতে থাকলে আগামী বোরো মৌসুমে সেচ নিয়ে তাদের বিপাকে পড়তে হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার গৌরনদী উপজেলার সুন্দরদী গ্রামের নীলখোলা ও টরকী বন্দরের ছাগলহাটাসংলগ্ন এলাকায় সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয় ভূমি অফিসের তথ্যমতে, নীলখোলা খালটি প্রায় ৩০ ফুট চওড়া। তবে দখলের কারণে খালটি সংকুচিত হয়ে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

নীলখোলা খালের একাংশ দখল করে যারা পাকা স্থাপনা তৈরি করছেন তাদের একজন জামাল হোসেন। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত জামালের দাবি, সরকারি খাল দখল করে নয়; নিজের কেনা জমিতে তিনি স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

দখলদারদের বাধা দিয়েও লাভ হয়নি বলে জানান বার্থী ইউনিয়ন তহশিলদার মিশেল আল সাদিক। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা না নিলে দখলকারীদের হাত থেকে খাল রক্ষা করা যাবে না বলেও জানান তিনি।

টরকী বন্দরের ছাগলহাটা এলাকার খাল দখলের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে সোহাগ মাঝিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, খালের মধ্যে বালি ফেলে ভরাট করার চেষ্টা করছেন প্রভাবশালীরা। স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ করা হলেও সে উদ্যোগ কতটুকু কাজে আসবে তা নিশ্চিত নয়।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, খাল যেভাবে দখল করা হচ্ছে তাতে আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচ কাজের জন্য পানি সরবরাহ নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন। কারণ সেচের জন্য এ খালগুলোর ওপর তারা নির্ভরশীল।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, দখলদাররা যে-ই হোক না কেন, কাউকে জনস্বার্থবিরোধী কাজ করতে দেয়া হবে না। শিগগিরই খালগুলো দখলমুক্ত করে দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।