রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নাব্য ফিরিয়ে আনা ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। পাশাপাশি রাজধানীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নদীগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
গতকাল রাজধানীর গুলশানের আলোকিতে টিম ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আয়োজিত ‘হাই লেভেল ইভেন্ট অন বাংলাদেশ রিভারস পলিউশন কন্ট্রোল, কনজারভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অব দ্য রিভারস সারাউন্ডিং ক্যাপিটাল ঢাকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাহবুবা রহমান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং, ইইউর মিনিস্টার কাউন্সিলর ও হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন মাইকেল ক্রেজা, ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে এবং নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
মন্ত্রী বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণ ও দখলমুক্ত রাখা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। নদীতে শিল্পবর্জ্য, পয়োবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’
নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ কোনো একক মন্ত্রণালয় বা সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পানিসম্পদ, পরিবেশ, নৌ-পরিবহন, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, শিল্প এবং রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি নদী-তীরবর্তী জনগণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতা, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ও জনদুর্ভোগ বাড়ে। এ কারণে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও জলাধারও সংরক্ষণ করতে হবে।’










