সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি২০ ম্যাচে ৪০৯ রানের থ্রিলারে শ্রীলংকার কাছে ৩ রানে হার মানল বাংলাদেশ। টস জিতে ফিল্ডিং নেয়া বাংলাদেশ ২০৭ রানের বিশাল টার্গেটের সামনে পড়ে। জবাব দিতে নেমে ৩০ রানে ৩ উইকেট নেই! টাইগাররা অবশ্য হারের আগে হারল না। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও জাকের আলীর বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিং দলকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় ধরা দিল না। তীরে গিয়ে তরী ডুবল স্বাগতিকদের। ৮ উইকেটে ২০৩ রান করা বাংলাদেশের হার ৩ রানে।

স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ের এ ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও জয় হলো ক্রিকেটের। সিলেটের নৈসর্গিক স্টেডিয়ামের এ ম্যাচটি বহুদিন ক্রিকেট অনুরাগীরা মনে রাখবেন। ৪০ ওভারে ২৩ ছক্কা ও ৩০ বাউন্ডারিতে দুই দল বোর্ডে তুলল ৪০৯ রান। চার-ছক্কা বৃষ্টির এ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল সিংহলিজরা। 

অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ৩১ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৪ এবং টাইগারদের ড্রেসিং রুমে নবাগত জাকের আলী ৩৪ বলে ৪ চার ও ৬ ছক্কায় ৬৮ রান করেন।

জাকের আলী এর আগে বাংলাদেশ দলের হয়ে গত বছর এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে খেললেও সেটি জাতীয় দল ছিল না। এবার বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ডেথ ওভারগুলো দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফর্ম করে তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। প্রথম ম্যাচেই দিলেন আস্থার প্রতিদান। এটি যে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ সেটি তার ব্যাটিং দেখে মোটেও মনে হয়নি। শেষ ওভার পর্যন্ত তিনি লংকানদের ত্রাস হয়ে থাকেন। 

বাংলাদেশের যখন ৪ বলে ১০ রানের প্রয়োজন তখন জয়ের স্বপ্নটা অনেক বড় বাংলাদেশের। যদিও শানাকাকে বাউন্ডারি মারতে গেলে লং-অফে আসালঙ্কার হাতে ধরা পড়েন জাকের। সেখানেই স্বপ্নের সমাধি ঘটে বাংলাদেশেরও। পরে শরিফুল একটি বাউন্ডারি মারলে শেষ বলে ৫ রানের প্রয়োজন পড়ে দলের। যদিও শানাকার চাতুর্যপূর্ণ বোলিংয়ের মুখে বাউন্ডারি নিতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। তাতে স্মরণীয় এক জয় ধরা দিতে দিতেও মিলিয়ে গেল যেন।  

এর আগে স্বাগতিকদের শুরুতেই বোলিং সাফল্য এনে দেন শরিফুল। প্রথম ওভারেই তিনি সাজঘরে ফেরান আভিস্কা ফার্নান্দোকে। যদিও শুরু আর শেষের সঙ্গে কোনো মিলই নেই। পরে সাদিরা সামারাবিক্রমা (৪৮ বলে ৬১*), কুশল মেন্ডিস (৩৬ বলে ৫৯) ও আসালঙ্কার (২১ বলে ৪৪*) ব্যাটে ভর করে ২০৬ রানের সৌধ গড়ে শ্রীলংকা।

বোলিংয়ের সময় পাওয়ার প্লেতে দারুণ করে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে আভিস্কা আউট হওয়ার পর পঞ্চম ওভারে কামিন্দু মেন্ডিসকে ফেরান আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর ৬১ বলে ৯৬ রানের জুটিতে শ্রীলংকাকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন কুশল ও সামারাবিক্রমা। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা কুশলকে আউট করে এ জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। তাতে অবশ্য রানের চাকা থামানো যায়নি। পরের জুটিতে ৩৩ বলে ৭৩ রান যোগ করেন সাদিরা ও আসালঙ্কা। এর মধ্যে ৪৪ রানই আসালঙ্কার। তিনি ৬ ছক্কায় সাজান তার ইনিংসটি। কুশল ৬ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৫৯ এবং সাদিরা ৮ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৬১ রান করেন। ১৪ বলে ১৯ রান করে দলের বড় সংগ্রহে অবদান রাখেন কামিন্দু মেন্ডিসও।

বাংলাদেশের তিন পেসারই ছিলেন ব্যয়বহুল। শরিফুল ৪ ওভারে ৪৭ রান, মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ৪২ রান ও তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে ৪০ রান দেন। 

১০ ওভার শেষে শ্রীলংকার সংগ্রহ ছিল ৭৯/২। পরের ১০ ওভারে লংকানরা ঝড়ের গতিতে তুলেছে ১২৭ রান। 

টিলায় ঘেরা সিলেটের নৈসর্গিক স্টেডিয়ামে টি২০ ক্রিকেটের যাত্রা ২০১৮ সালে। তখন এ শ্রীলংকার কাছে ৭৫ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। সিলেটে এ নিয়ে লংকানদের সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলে দুটিতেই হারল স্বাগতিকরা। বুধবার একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ও শনিবার তৃতীয় ম্যাচ। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা: ২০ ওভারে ২০৬/৩ (সাদিরা ৬১, কুশল ৫৯, আসালঙ্কা ৪৪; রিশাদ ১/৩২)। বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ২০৩/৮ (জাকের ৬৮, মাহমুদউল্লাহ ৫৪; ম্যাথুস ২/১৭, শানাকা ২/৩৬, বিনুরা ২/৪১)। ফল: শ্রীলংকা ৩ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: চারিথ আসালঙ্কা (শ্রীলংকা)। সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে শ্রীলংকা ১-০তে এগিয়ে।