মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ধনী দেশগুলো বারবার প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন আমরা দয়া বা ঋণ হিসেবে চাই না; এটি আমাদের অধিকার। তাই এটি অনুদান আকারে প্রদান করতে হবে—এ দাবিটি আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই।’

ব্রাজিলের বেলেমে স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে (১৫ নভেম্বর) জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০–এর ব্লু জোনে অবস্থিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ও যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত—তাদের মধ্যে যেন এক অসম যুদ্ধ চলছে। আমরা বাংলাদেশ থেকে বা দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে যখন এখানে আসি, তখন তা আরো স্পষ্টভাবে অনুভব করি।’

উপদেষ্টা জেন্ডার-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জলবায়ু নীতিতে নারীর অংশগ্রহণের ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন নারীদের উপর ভীষণভাবে প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ থাকতে হবে। ’

নদীর স্বভাব বদল, আবাসস্থল নষ্ট হওয়া ও জলবায়ুজনিত চাপ দেশের জাতীয় মাছ ইলিশকে সংকটে ফেলছে। এতে মৎস্যজীবীরা পেশা হারানোর ঝুঁকিতে পরছেন বলেও জানান মৎস উপদেষ্টা। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ইলিশ বিশ্বে প্রথম—প্রকৃতি আমাদেরকে এই সম্পদ দিয়েছে, তাই এ সম্পদ রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী, সেন্টার ফর ক্লাইমেট জাস্টিস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এম. হাফিজুল ইসলাম খান-সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।