টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার স্বপ্নই দেখছিল বাংলাদেশ। যদিও অপেক্ষা বাড়ল টাইগারদের। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে সৌম্য সরকার ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে তিনশর কাছাকাছি পুঁজি পায় বাংলাদেশ (২৮৬/৭)। এই রান দিয়ে সিংহলিজদের আটকানো যায়নি। রাতের শিশিরে ভেজা উইকেট ও আউটফিল্ডের পুরো সদ্ব্যবহার করে ৩ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতা এনেছে সফরকারীরা।

বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ৪৩ রানের মধ্যে আভিস্কা ফার্নান্দো, কুশল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমাকে হারায় শ্রীলংকা। এতে টাইগার শিবিরে জয়ের আশা জাগলেও সেই আশা দ্রুতই রূপ নেয় নিরাশায়। পাথুম নিশাঙ্কা ও চারিথ আসালঙ্কার ১৮৩ বলে খেলা ১৮৫ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়। নিশাঙ্কা ১১৩ বলে ১১৪ ও আসালঙ্কা ৯৩ বলে ৯১ রান করেন। এটা চতুর্থ উইকেটে শ্রীলংকার রেকর্ড পার্টনারশিপ। অর্জুনা রানাতুঙ্গা ও রোশান মহানামার ১৭১ রানই ছিল এতদিন চতুর্থ উইকেটের রেকর্ড পার্টনারশিপ।

নিশাঙ্কা ও আসালঙ্কা দুজনই দলীয় ২৩৫ রানের মধ্যে আউট হয়ে গেলে খানিকটা আশা জাগে বাংলাদেশের। যদিও ওভারপ্রতি পাঁচেরও নিচে রান প্রয়োজন ছিল বলে টেল-এন্ডের ব্যাটে ভর দিয়ে শ্রীলংকা ঠিকই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ডি সিলভা (২৫) ও দুনিত বেলালাগে (১৫) লড়াকু ব্যাটিংয়ে ১৭ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে দলকে জেতান। এ জয়ে সিরিজে ১-১-এ সমতায় ফিরল কুশল মেন্ডিসের দল। 

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শূন্য রানে লিটন দাসকে হারানোর পর সৌম্য, শান্ত ও তাওহিদের ব্যাটে ভর করে একশ পেরোয়। সৌম্য ৬৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান। শূন্য রানে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। এরপর তাওহিদের অনবদ্য ব্যাটিং দলকে এনে দেয় তিনশর কাছাকাছি পুঁজি। ১০২ বলে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ক্যারিয়ারসেরা ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া সৌম্য ৬৬ বলে ১১টি চার ও ১ ছক্কায় ৬৮ রান করেন। অধিনায়ক শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৩৯ বলে ৪০ রান। হাসারাঙ্গা ৪৫ রানে ৪টি ও দিলশান মদুশঙ্কা ৩০ রানে ২টি উইকেট নেন। 

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে ফিরে যান লিটন। মদুশঙ্কার বলে স্কয়ার লেগে দুনিত বেলালাগেকে ক্যাচ দেন তিনি। তার আউটের পর স্কোরবোর্ডের চিত্রটা বিভীষিকাময় হতে পারত। ১ রানে ২ উইকেট হারাতে পারত বাংলাদেশ। একই ওভারে দুবার জীবন পান শান্ত। জীবন পেয়ে সৌম্যকে নিয়ে ৭২ বলে ৭৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন তিনি। লংকানদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা এ বামহাতি ব্যাটার ১৩তম ওভারে মদুশঙ্কার শিকার হন। উইকেটকিপার কুশল মেন্ডিস ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন তার। 

এরপর তাওহিদকে নিয়ে ৫৪ বলে ৫৫ রানের দারুণ এক জুটিতে দলের রান একশ পার করান সৌম্য। ২০তম ওভারে হাসারাঙ্গাকে টানা দুটি চার মেরেছেন তিনি, এর প্রথমটিতে ক্যারিয়ারে ২ হাজার রান পূর্ণ হয়েছে তার। ৬৪ ইনিংসে তিনি ২ হাজার রান পূর্ণ করেন। শাহরিয়ার নাফীস ৬৫ ইনিংসে, লিটন কুমার দাস ৬৫ ইনিংসে, সাকিব আল হাসান ৬৯ ইনিংসে, তামিম ইকবাল ৭০ ইনিংসে দুই হাজার রান করেন। 

হাসারাঙ্গার বলেই সৌম্যর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মদুশঙ্কাকে ক্যাচ দেন তিনি। এক বল পরেই নতুন ব্যাটার মাহমুদউল্লাহকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন হাসারাঙ্গা। এরপর বাকিদের নিয়ে লড়ে যান তাওহিদ। তিনি মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৪৩, মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ১৬, তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে ৪৭ ও তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৫০ রানের জুটিতে দলের রান তিনশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ওয়ানডেতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও অল্পের জন্য পারেননি তাওহিদ। 

প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের যুগলবন্দিতে ৬ উইকেটের অসাধারণ এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি শ্রীলংকা জিতে নেয়ায় চট্টগ্রামে সোমবার সিরিজের মীমাংসা হবে।

হার শেষে তাওহিদের প্রশংসা করে শান্ত বলেন, ‘সে (তাওহিদ) দারুণ ব্যাট করেছে। তার কাছ থেকে আমরা এমনটাই চাই। তবে এমন উইকেটে আমার ও সৌম্যর আরো কিছুক্ষণ ব্যাট করা উচিত ছিল। পরের ম্যাচে চেষ্টা করব। আশা করি, পরের ম্যাচে বিশেষ কিছু হবে।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৮৬/৭ (তাওহিদ ৯৬, সৌম্য ৬৮, শান্ত ৪০; হাসারাঙ্গা ৪/৪৫, মদুশঙ্কা ২/৩০)। শ্রীলংকা: ৪৭.১ ওভারে ২৮৭/৭ (নিশাঙ্কা ১১৪, আসালঙ্কা ৯১, হাসারাঙ্গা ২৫, দুনিত ১৫*; শরিফুল ২/৪৯, তাসকিন ২/৪৯)। ফল: শ্রীলংকা ৩ উইকেটে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: পাথুম নিশাঙ্কা (শ্রীলংকা)। সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১-এ সমতায়।