আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, মামলা কার্যকর করার ক্ষেত্রে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা মিলছে না।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫ এর ‘কর্তৃত্ববাদ, নৃশংসতা এবং জবাবদিহিতা, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্রান্তিকালীন ন্যায়বিচার’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এনটিএমসি থেকে যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। বিগত সরকারের আমলে ও অভ্যুত্থানের সময় শীর্ষ নেতারা হত্যার নির্দেশনা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে যে কথোপকথন হয়েছিল, সেসব তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। অথচ এসব তথ্য এনটিএমসির কাছে থাকার কথা। সরকার পালিয়ে যাওয়ার সময় অনেক তথ্য মুছে দিয়েছে, ধ্বংস করেছে। তবে মুছে দেয়া কিছু তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা বিচারকার্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৮ থেকে ১০টি মামলা নিষ্পত্তির আশা করা হচ্ছে। কতগুলো মামলা শেষ করা যাবে তা নিশ্চিত নয়। তবে নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে অন্তত ৮–১০টি মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে আশা করি। এর মধ্যে শীর্ষ নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা অগ্রাধিকার পাবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের উদ্দীপনা ধরে রেখে সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখতে হবে, যেন বিচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। আগামীতে যে সরকার আসবে, তাদের কাছ থেকেও এ বিচার চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার নিতে হবে। বিচার বন্ধ হয়ে গেলে তা হবে ২৪ জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি, শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি।