বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে যে পাঁচজন জয়ী হয়েছিলেন তার একটি এ আসন। সরাইল-আশুগঞ্জ উপজেলা ও বিজয়নগরের একাংশ নিয়ে গঠিত এ আসন এবার জোটসঙ্গী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। ফলে খেজুর গাছ প্রতীকই এখানে ধানের শীষের প্রতিনিধিত্ব করছে।
তবে এ আসনে বিএনপির সাবেক (বহিষ্কৃত) দুই নেতাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে।
ভোটাররা বলছেন, এ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, রুমিন ফারহানা ও তরুণ দের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আসনটিতে ৮০ হাজারের অধিক হিন্দু ভোটার রয়েছেন বলে জানা গেছে। মূলত তারাই নির্বাচনে বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। এজন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন জয় করতে প্রার্থীরা নানা ধরনের আশ্বাসও দিচ্ছেন।
সরাইল সদর এলাকার অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গাড়িতে যেসব যাত্রী ওঠে তাদের মধ্যে হাঁস (রুমিন ফারহানার প্রতীক) নিয়েই বেশি গল্প শুনি। খেজুর গাছ শুরুর দিকে মানুষের আলোচনায় কম ছিল। এখন খেজুর গাছ, কলার ছড়িরও ভালোই প্রচার-প্রচারণা আছে। এ তিনজনের মধ্য থেকেই একজন জিতবেন।’
ষাঠোর্ধ্ব বয়সী আব্দুল জব্বার বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থী জিতেছে। এবার কী হবে বলা যাচ্ছে না। খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি নেতারা কাজ করছে। তবে রুমিন ফারহানা ও তরুণ দে—দুজনই বিএনপির সাবেক নেতা হওয়ায় বিএনপির ভোটারদের একটি অংশ তাদের ভোট দেবে। এ আসনে হিন্দু ধর্মের বড় ভোট আছে। সেজন্য প্রথমে আলোচনায় না থাকলেও তরুণ দে এখন ভালো আলোচনায় রয়েছেন। তিনি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের হয়ে কাজ করায় সনাতন ধর্মের ভোটারদের একটি ভালো সাড়া পেতে পারেন।’
রোববার দুপুরে সরাইল উপজেলা এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর। জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুজন স্বতন্ত্র হওয়ায় ভোট কিছুটা কাটবে। এতে কিছু ক্ষতি হলেও জয় পেতে সমস্যা হবে না। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান খেজুর গাছের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ। খেজুর গাছই আমাদের কাছে ধানের শীষ। সেজন্য এখানে খেজুর গাছই জিতবে বলে শতভাগ আশাবাদী।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মনোনয়ন না দেয়ায় দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই। দল যদি মনে করে আমার সেবার আর প্রয়োজন নেই, তাহলে সেটাই মেনে নিলাম। আমি আমার মতো করেই রাজনীতি চালিয়ে যাব। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দল থেকে আমাকে পদত্যাগ করতে বললে কোনো দ্বিধা না করেই তা মেনে নিয়েছিলাম। এর পরও দল যদি মনে করে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন, আমি সেটিকেও স্বাগত জানাই।’
তবে এর আগে সমাবেশে রুমিন ফারহানা নিজের জয় ও বিএনপি জোটপ্রার্থীকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমরা হাঁস, আমরা চাষ করা ধানই খাবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপি ছয়বার, জাপা তিনবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার জয়ী হয়েছেন। খেজুরগাছ, কলার ছড়ি ও হাঁসের বাইরেও জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের অংশ জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাওলানা আশরাফ উদ্দীন। তার নানা মাওলানা ফজলুল হক আমিনী ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোটের হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রোববার তিনি সরাইল উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। সে সময় আশরাফ উদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে। তরুণদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, তারা পুরনো রাজনীতিকে পছন্দ করছে না। বয়স্করাও ভালো সাড়া দিচ্ছেন। বিএনপির ভোট তিন ভাগ হয়েছে। এটি আমার জন্য সুবিধা হবে।’
আলোচিত আসনটিতে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, জেএসডির তৈমুর রেজা মো. শাহজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেছার আহমাদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. মাঈন উদ্দিন ও আমজনতার দলের শরিফা আক্তার। তবে জাতীয় পার্টির হয়ে ২০০৮ ও ২০১৪ নির্বাচনী হয়ে মো. জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচনের লড়াইয়ে থাকলেও গতকাল ভোট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনেও ভোটের ফলে বড় প্রভাব রাখবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটাররা। এ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে আওয়ামী লীগ আটবার, জাতীয় পার্টি দুবার, ন্যাপ একবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুবার জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ কখনই জিততে পারেনি। প্রথমবার আসনটিতে জয়ের বিষয়ে অধিক আশাবাদী বিএনপি।
এবার নাসিরনগর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও বিএনপি প্রার্থী আবদুল হান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ধানের শীষের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। আসনটি থেকে প্রথমবারের মতো বিএনপি জয়লাভ করবে বলে আশা করছি।’
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক একেএম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে আমাদের প্রচারণা চলছে। প্রতিদিন উঠান বৈঠক করছি। গ্রামে গ্রামে যাচ্ছি এবং ভালো সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।’
এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি মাওলানা হুসাইন আহমেদ আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাইদুল্লা বিন আনসারী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল চৌধুরী, একেএম কামরুজ্জামান, মো. হাবিবুর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শরীফ মৃধা ও জাতীয় পার্টির মো. শাহ আলম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সদর ও বিজয়নগর উপজেলা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন। ১৯৯১-২০০৬ সাল পর্যন্ত আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ থেকে ২০২৪-এর নির্বাচন পর্যন্ত এটি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। তিনি এ আসনে ২০১১ সালের উপনির্বাচন ও ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার আশা ব্যক্ত করে বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আগে থেকেই মাঠ মিশনে নেমেছি। গণসংযোগ করছি। জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।’
একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনসিপির মো. আতাউল্লাহ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আয়েশা আক্তার, ইসলামী আন্দোলনের নিয়াজুল করীম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আবু হানিফ, জাতীয় পার্টির মো. রেজাউল ইসলাম ভূঞা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ওমর ইউসুফ খান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মুশফিকুর রহমান। তিনি বিভিন্ন সময় আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম সুসংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যের কারণে তিনি কসবা ও আখাউড়ায় বেশ গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।
মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি ঐক্যবদ্ধ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। জনগণ ভোট দিলে নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
আসনটিতে জামায়াতের হয়ে লড়ছেন আতাউর রহমান সরকার। তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করছি প্রতিটি ইউনিয়নে মানুষের কাছে যাওয়ার। মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। তাদের মধ্যে একটা প্রত্যাশা জেগেছে। মানুষ পরিবর্তন চায়, নতুন বাংলাদেশ চায়। আমরা সবার কাছে এ কথাই বলার চেষ্টা করছি, আপনারা যা চাচ্ছেন, যে নেতৃত্ব চাচ্ছেন আমরা সেই নেতৃত্বই আপনাদের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’
এছাড়া ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জসিম, জাতীয় পার্টির মো. জহিরুল হক খাঁন, গণঅধিকার পরিষদের মো. জহিরুল হক চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রফি উদ্দীন ও এনসিপির শাহীন খান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে মো. আবদুল মান্নানকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তবে ভোটাররা বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা বিএনপি নেতা (বহিষ্কৃত) কাজী নাজমুল হোসেন তার জয়ের পথে বড় বাধা হতে পারে। স্থানীয়ভাবে নাজমুল হোসেনের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর বাইরে তার বাবা কাজী মো. আনোয়ার হোসেন একই আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। সেজন্য তার বাবার রেখে যাওয়া বড় ভোটব্যাংক রয়েছে বলেই মনে করেছেন অনেকে।
রোববার সন্ধ্যায় চর গোসাইপুর মোড়ে একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন আওয়াল মিয়া। তার কাছে নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘এখানে ধানের শীষের সঙ্গে ফুটবলের (স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক) প্রতিযোগিতা বেশি হবে। তবে ধানের শীষ জিততে পারে। ধানের শীষ মার্কার প্রতি আমাদের দেশের আলাদা একটি টান আছে। তবে যোগ্য হিসেবে ধানের শীষ ও ফুটবলের লড়াই হবে মনে হচ্ছে।’
গোসাইপুর বাজারে কথা হয় কৃষ্ণপদ সরকারের সঙ্গে। তার মতেও ধানের শীষ ও ফুটবলের মধ্যে অধিক প্রতিযোগিতা হবে। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী অনেক ভোট পেলেও ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যেই প্রথম ও দ্বিতীয় হবে।’
নবীনগর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নান বলেন, ‘যদি নির্বাচনে জয়ী হই, তাহলে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ চক্র ও বালুমহালের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে। নবীনগর-ঢাকা, নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক সংস্কার করে জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করা হবে। একই সঙ্গে নবীনগরে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।’
আসনটিতে আইনজীবী আবদুল বাতেনকে প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া এনসিপির জেলা সংগঠক এবিএম কবির আলম, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা আবদুল কাইয়ুম ফারুকী, সিপিবির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শাহিন খান ও গণসংহতি আন্দোলনের নাহিদা সাহানও মাঠে রয়েছেন।
জোটসঙ্গী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনটি ছেড়েছে বিএনপি। এখানে ড. সাইদুজ্জামান কামাল স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) হিসেবে নির্বাচন করছেন। এ আসন থেকে মো. মহসীন জামায়াতে ইসলামীর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা আবদুল মজিদ, সিপিবির সৈয়দ মো. জামাল ও এনসিপির মো. মাইন উদ্দিনও ভোটের মাঠে রয়েছেন।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী মাথাল প্রতীকের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না হলে ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করব। যারা প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন তাদের চেয়ে এখানে মাথাল মার্কার গণজোয়ার চলছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।’
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন বণিক বার্তার প্রতিনিধি নিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জি













